বক্তব্যে অটল ব্যারিস্টার সুমন, বললেন- ‘সত্য কথা বলায় আমার শত্রু বেশি’

নজর২৪ ডেস্ক- ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সামাজিক নানা সমস্যা নিয়ে ফেসবুক লাইভ করে প্রায়ই আলোচিত হন। সম্প্রতি তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পর আবার আলোচনায় এসেছেন তিনি।

 

যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সায়েদুল হকের বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও আদর্শবিরোধী এবং অরাজনৈতিক আচরণের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়েছে।

 

তবে সোমবার (০৯ আগস্ট) সায়েদুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি দলের সুনাম নষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ বা বক্তব্য কখনোই দেননি।

 

জানা যায়, গত ৪ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়েছিলেন সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন। “শুভ শুভ দিন শেখ কামালের জন্মদিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” ওই স্লোগানের ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে স্লোগান দেয়ায় ওসি সরকারি বিধিমালা ১৯৭৯ লঙ্ঘন করেছেন এমন কথাও বলেন কেউ কেউ।

 

এই ঘটনার পর যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার সুমন সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেন। ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ওসির এই স্লোগানের নিন্দা জানান ব্যারিস্টার সুমন।

 

পরে শনিবার (৭ আগস্ট) যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে।

সোমবার একটি জাতীয় দৈনিককে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘সেদিন যমুনা টেলিভিশনে দেখলাম, শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন সাহেব শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে স্লোগান দিচ্ছেন। এটি কোনো সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। ওসি সাহেব জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের পর বলেন, আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করি না বুলেট বোমা। সরকারি কর্মকর্তা এমন স্লোগান দিতে পারেন না। প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়ে ওসি সাহেব সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ লঙ্ঘন করেছেন। লাইভে আমি এ কথাটাই বলেছিলাম।’

 

সায়েদুল হক সংগঠন থেকে অব্যাহতির বিষয়টিকে দেখছেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে। এ অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একদল ফেসবুকে প্রচার করেন আমি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের বিরোধিতা করেছি। অথচ বিষয়টি তেমন ছিল না। আমি ওসি সাহেবের স্লোগান দেওয়া বেমানান এবং তা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলেই বলেছি। আমি লাইভে এটাও বলেছি, আওয়ামী লীগে আর কোনো নেতা কি নেই যে তাঁকেই স্লোগান ধরতে হবে? অথচ বলা হচ্ছে, আমি জয় বাংলার বিরোধিতা করেছি।’

 

দল থেকে সাময়িক অব্যাহতির চিঠি পাওয়া প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সায়েদুল হক বলেন, সংগঠনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। তবে তাঁকে ঠিক কোন ঘটনায় বা কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা চিঠিতে উল্লেখ নেই।

 

তিনি বলেন, ‘তারপরও বলব, আমি এ পর্যন্ত যা বক্তব্য দিয়েছি, তা ঠিক দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা হাইকোর্টের একটি রায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে আমি বলছি, হাইকোর্টের অর্ডারে সরকারি অনুষ্ঠান শেষে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলা আছে। ওসি সাহেব যে অনুষ্ঠানে স্লোগান দিয়েছেন, তা কিন্তু সরকারি কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। আর ওসি সাহেবকে আমি চিনি না, ব্যক্তিগতভাবে কোনো শত্রুতাও নেই বা এত আলোচনা-সমালোচনার পর আমি নিজে বা ওসি সাহেব এ নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথাও বলেননি।’

 

সায়েদুল হক জানান, ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপরেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘জীবন-যৌবন শেষ করলাম দলের জন্য। সত্য কথা বলি, তাই আমার শত্রুও বেশি। আমি চাইলে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারি, তবে তা করব না। আমি মনে করি, ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ বড়। দলের প্রয়োজনে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, দলের প্রয়োজনে ছেড়ে দিয়েছে। দল চাইলে স্থায়ীভাবেও আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *