সরকারের উদ্দেশে হাটহাজারী মাদরাসার ১৩টি বিশেষ পরামর্শ

নজর২৪ ডেস্ক- করোনা পরিস্থিতি ও কওমি মাদরাসা খোলার বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মজলিসে এদারি ও মজলিসে ইলমি (প্রশাসনিক ও শিক্ষা পরিচালনা পরিষদ)।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাসহ ১৩টি বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এতে।

 

গতকাল ( ৪ আগষ্ট) বুধবার প্রতিষ্ঠানটির মজলিসে ইদারীর প্রধান মুফতি মুহাম্মদ আব্দুচ্ছালাম চাটগামী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দেওয়া হয় হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে এদারি ও মজলিসে ইলমির পক্ষ থেকে ।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-

 

১) দ্বীনি কওমি মাদ্রাসাসমূহ বস্তুনিষ্ঠ ইসলামী জ্ঞানের শিক্ষাকেন্দ্র। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকা জরুরী।

 

২) বিষয়টি উলামায়ে কেরাম এবং মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের উপর ধর্মীয় কর্তব্য।

 

৩) এসব ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ করোনার অজুহাতে বন্ধ রাখার যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ থাকতে পারে না।

 

৪) জাতি এবং অভিভাবক মহল কওমি মাদ্রাসাসমূহের সাথে সম্পৃক্ত উলামায়ে কেরামের উপর দৃঢ় আস্থাবান। যে কারণে তারা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য চাঁদা ও দান-সদক্বা দিয়ে থাকেন।

 

৫) কোন রোগ-ব্যধি বা মহামারির কারণে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মসজিদে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগীর জন্য জমায়েত হতে নিষেধ করা যায় না। বর্তমানে এসব ক্ষেত্রে কেন বিধি-নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে?

 

৬) আমাদের সরকার ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলদের কর্তব্য, ধর্মীয় জ্ঞান এবং কুরআন-হাদীসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ না রাখা।

 

৭ ও ৮) উলামায়ে কেরাম এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া খুবই জরুরী। অন্যথায়- আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আজাব ও শাস্তি কমবে না, বরং বাড়বে।

 

৯) সকলপ্রকার আজাব ও রোগ-ব্যাধি আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। যদি তিনি স্বয়ং এসব বন্ধ না করেন, তবে কারো পক্ষে এসব রোধ করা কখনোই সম্ভবপর নয়।

 

১০) মহামারির সময় সকলের জন্য জরুরী হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি ফিরে যাওয়া এবং তাঁর দরবারে অনুতাপ ও বিনয়ের সাথে উপস্থিত হয়ে তাওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করা।

 

১১) রোগ-ব্যধিতে কতজন মারা যাবেন, তার সংখ্যা তাকদীরেই নির্ধারণ করা আছে। এতে কোনরূপ কম-বেশ হবে না।

১২) এটাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা অনর্থক।

 

১৩) রোগ-ব্যধিতে সুস্থতার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সুন্নাত। যার তাকদীরে হায়াত আছে, তিনি বেঁচে যাবেন।

 

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওবা করে তাঁর প্রতি ফিরে আসার তাওফীক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *