নজর২৪, ঢাকা- দেশে এখনও করোনার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা তো এখনও করোনা ফ্রি হইনি। বিধিনিষেধ অবশ্যই থাকতে হবে। বিধিনিষেধের মধ্যেই তা মেনে কাজ করতে হবে।
রবিবার (১ আগস্ট) মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়বে। জীবনের জন্য জীবিকার দরকার হয়। সরকারকে সবকিছুই ভাবতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘এখন দেশের উত্তরাঞ্চলে সংক্রমণ কম। মধ্যাঞ্চলে সংক্রমণ স্থিতিশীল। পূর্বাঞ্চল তথা কুমিল্লায় বাড়ছে। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনায় আক্রান্তদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ মৃত্যুবরণ করে। আমাদের জীবনের জন্য জীবিকার দরকার আছে। আবার জীবিকার জন্য তো জীবনও থাকতে হবে। আমাদের এই দুটো ব্যালেন্স করতে হয়। সরকারের সে ব্যালেন্স করে চলতে হয় কিন্তু ব্যালেন্স সবসময় রাখা যায় না।
৭ আগস্ট থেকে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনার টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজকের অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক বলেন, ‘৭ থেকে ১৪ আগস্ট এই ৭ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের মানুষকে অন্তত ১ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। দেশের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত সর্বত্র এই টিকা উৎসব চলবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকাদানের যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ১৮ বছর বয়সী মানুষ টিকা পাবেন। আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, বয়স্ক মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারপর অন্য ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবায় এগিয়ে যাচ্ছে। ওষুধের কোনো স্বল্পতা নেই। সংক্রামক রোগ আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এখন করোনার কারণে নন-কমিউনিকেবল অনেক রোগের চিকিৎসা আমরা দিতে পারছি না। আমরা আশা করি, আমরা যেভাবে চিকিৎসা দিচ্ছি, আরও ভালো করবো।
আজকে আমি গর্বের সাথে বলতে পারি, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবাই ভালো কাজ করছে জন্য আমাদের অর্থনীতি এখনো ভালো চলছে। গ্রোথ এখনো ছয় শতাংশ আছে। বড় বড় রাষ্ট্র যেখানে মাইনাসে চলে গেছে। খাদ্যের অভাব হয়নি যেহেতু করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের সমস্ত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত আছে। রেকর্ড রেমিট্যান্স আসছে। যেহেতু আমাদের দেশ এখনো ভালো আছে— বলেন তিনি।
