নজর২৪, ঢাকা- গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাকা ফেরার চাপ সামলাতে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে গণপরিবহন চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার (১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
এসময় জননিরাপত্তা সচিবসহ সব বাহিনীর প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় যে- গণপরিবহন ১৬ ঘণ্টা চলাচলের যে সিদ্ধান্ত হলো, এছাড়া সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত নৌযান চলাচলের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে এর সঙ্গে সড়কেও কি পরিবহন চলাচল করবে?
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়টি কেবিনেট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আমাদের কাছে যে খবর সেটা হলো, রাতে প্রচণ্ড চাপ ছিল গার্মেন্টস শ্রমিকদের। এটা দেখে এদেরকে যেন ঢাকায় নিয়ে আসা যায় সেজন্য একটা সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এটা অব্যাহত থাকবে কি-না সেটা কেবিনেট ডিবিশন জানে।’
তিনি বলেন, ‘বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত যেখান থেকে আসে এবং শিথিল করে এ বিষয়ে সেখানকার কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।’
আর এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা দেয়ার বিষয়ে আমার সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়েছে। এই মাসের ৭ তারিখ থেকে আমরা তার (ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেয়া) ব্যবস্থা করছি। টিকা দেয়ার জন্য সবাইকে মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য অনুরোধ করছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শোক দিবসের সারা দেশের কোনো অনুষ্ঠানে মাস্ক পরা ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জাতীয় শোক দিবসের সব অনুষ্ঠানস্থলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ রইল।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, জাতীয় শোক দিবসে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেদিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়াও জাতীয় শোক দিবসে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানস্থলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং যেখানে যা প্রয়োজন ডুবুরিসহ উপস্থিত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে জাতীয় শোক দিবসের সব অনুষ্ঠানে র্যাবের টহল থাকবে। সব অনুষ্ঠান গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় থাকবে। অনুষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
