সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বৈশ্বিক মহামারী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, হাসপাতাল গুলোতে তিলধারণের ঠাঁই নাই, আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট) তো সোনার হরিণ! অনেককেই বাধ্য হয়ে করোনার চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বাড়িতেই। সেক্ষেত্রেও সব থেকে বড় সমস্যা ও দুর্ভোগের নাম অক্সিজেন।
সেই জীবন বাঁচানো অক্সিজেন দিয়ে এ দূর্ভোগ চলাকালীন সময়ে সীমাহীন চাহিদার বিপরীতে ক্ষুদ্র উদ্যোগ হিসেবে বিনামূল্যে অক্সিজেন সাপোর্টের ব্যবস্থায় এগিয়ে এসেছেন বগুড়ার শেরপুরের ৯ জন ডাক্তার। তবে প্রাথমিকভাবে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে। এখন থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীর অক্সিজেনের অভাবজনিত সমস্যায় তাদের সাথে নিঃশঙ্কোচে যোগাযোগ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন ওইসব উদ্যেক্তারা।
তবে চিকিৎসার পাশাপাশি এ ধরণের ব্যক্তিক্রমি আত্মমানবতার সেবার যারা উদ্যোগ গ্রহন করেছেন তারা হলেন, ডা. শামীম আরা বেগম, ডা. আমিরুল ইসলাম, ডা. মমিনুল হক, ডা. জোবায়েদ সুলতান, ডা. মনিরুজ্জামান স্বপন, ডা. ধীমান সাহা, ডা. সামিউল হক, ডা. ইকবাল হোসেন এবং ডা. অমিত লাহা।
এ উপজেলার করোনা আক্রান্তদের অক্সিজেন সেবা পেতে ০১৭১৭০৬৪৭৪৬ মোবাইল ফোন নম্বর বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এ উদ্যোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সেট সহ, ১টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও কিছু সংখ্যক চিকিৎসা সরমাঞ্জাদি সংযুক্ত রেখেছেন বলে তরুন চিকিৎসক অমিত লাহা জানান।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক কুমার সরকার বলেন, করোনা আক্রান্তদের অক্সিজেন দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় ডাক্তারদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে ডাক্তারদের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এই সকল মহৎ কাজে এগিয়ে আসা উচিৎ।
এ ব্যাপারে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এর প্রভাষক ডাঃ মো. আমিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে অনেক করোনা উপসর্গ বা করোনা রোগীরা অক্সিজেন পাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে যাদের শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ ৯৪ শতাংশের কম, তাদেরকে অক্সিজেন সেবা দিয়ে বাড়িতেই সুস্থ করা সম্ভব।
তাই শেরপুরের করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কথা চিন্তা করে আমরা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করেছি। আমাদের সেবা পেয়ে করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিরা উপকৃত হলেই আমাদের এ উদ্যোগ সফল হবে।
