চাঁদাবাজিঃ ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রাজা’ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

নজর২৪ ডেস্ক- শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের এক কর্মচারীর কাছে চাঁদা দাবি এবং তাকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

 

গ্রেপ্তার আকতারুল করিম রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকায় তিনি ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রাজা’ হিসেবে পরিচিত।

 

শাহবাগ থানায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের ওয়ার্ড বয় মো. মনির হোসেনের মামলায় রুবেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল থেকে রুবেলকে আটক করে পুলিশ।

 

রুবেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। মাদক বিক্রির পাশাপাশি রুবেলের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইের অভিযোগ রয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, শেখ হাসিনা বার্ন ইনিস্টিটিউটের ওয়ার্ড বয় মনির হোসেন এবং তার কয়েকজন সহকর্মী সকালের নাস্তা করার উদ্দেশ্যে বাইরে যাচ্ছিলেন। ইনিস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের সামনে পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করে রুবেল ও তার সহযোগীরা পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

 

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুবেল এবং তার সহযোগীরা হাতে থাকা কাঠ ও রড নিয়ে মনির হোসেন ও তার সহকর্মীদের মারতে থাকেন। কিল, ঘুষি ও লাথিতে মারাত্নক জখম করেন। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে হাসপাতাল থেকে অন্য কর্মচারীরা বের হয়ে রুবেলকে ধরতে পারলেও তার সঙ্গে থাকা বাকিরা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে রুবেলকে আটক করে।

 

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আকতারুল করিম রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মনির হোসেন চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, আমি জানতে পেরেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী (আকতারুল করিম রুবেল) অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় আটক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

 

আকতারের গ্রেফতারের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগে কোনো অপরাধীর প্রশ্রয় নেই। মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। তার (আকতারুল করিম রুবেল) গ্রেফতার এবং অভিযোগের বিষয়গুলো জেনেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আমরা ইতিমধ্যে অনুরোধ করছি এবং সহায়তা করছি। এর বাইরে আমাদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে যে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, তা আমরা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *