বিনোদন ডেস্ক- অভিনেত্রী পরীমণি রবিবার (১৩ জুন) প্রথমে ফেসবুক স্ট্যাটাস পরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে বনানী থানায় গেলে তাকে সহযোগিতা করেনি পুলিশ।
তবে পরীমণির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া। তিনি বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে তিনি বনানী থানায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বেসামাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় কারও অভিযোগ নেওয়া যায় না।’
ওসি আরও বলেন, ‘সেদিন মধ্যরাতে থানার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, পরীমণি মদ্যপ অবস্থায় বলেছিল যে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে। তবে পরীমণির কথায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই ডিউটি অফিসার পরীমণিকে প্রথমে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসার পর অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’
‘এরপর পুলিশের একটি দল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরীমণি আর অভিযোগ করেননি।’
ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘বেসামাল অবস্থায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা রোববার রাত পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি।’
এদিকে, পরীমণির বনানীর বাসায় বনানী থানা পুলিশের সঙ্গে সাভার থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাব হওয়ায় সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত। পরীমণির বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্ত স্থানীয় থানা (সাভার) পুলিশ করবে। আমরা কোনো তদন্ত করব না।’
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার বিচার চাওয়ার বিষয়ে পরীমণি ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের উদ্দেশে লেখেন, “থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না, মা। যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনাটি বিস্তারিত জেনে ‘দেখছি’ বলে চুপ হয়ে যায়।”
পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি সোহেল রানা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আইজিপি স্যারের সঙ্গে তিনি (পরীমণি) কখনওই কথা বলেননি। আইজিপি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেননি। আইজিপি স্যার এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্যারের নাম অহেতুক ম্যানশন করা হয়েছে।’
এর আগে গত বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে বারবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা পরীমনি। তিনি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে বারবার বলতে থাকেন, ‘আমি বলতে পারতেছি না, আমি বলতে পারতেছি না।’
মিনিট ১৫ কথা বলেছেন পরী। এর মধ্যে তিনি কতবার কেঁদেছেন, তার হিসাব নেই। কখনও কেঁদেছেন নীরবে, কখনও ডুকরে।
রোববার রাতে পরীমনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি চিঠি পোস্ট করেন। সেখানে কে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা করেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
পরে রাত ১০টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা হাজির হন তার বনানীর বাসায়। তিনি জানান, বুধবার রাত ১২টার সময় তিনি তার পূর্বপরিচিত অমি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জিমিকে নিয়ে আশুলিয়ার বিরুলিয়ায় যান।
কেন গিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কাজের ব্যাপারে গিয়েছিলাম। অমি অনেকদিন থেকেই বলছিল একটা কাজ করতে হবে। কিন্তু সময়ের কারণে কাজের ব্যাপারে কথা বলতে পারছিলাম না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিচিত বলে কাজের জন্য কথা বলতে রাজি হই।’
বোট ক্লাবে যাওয়ার পরেই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন চার থেকে পাঁচ জন। তারা বসতে বলে প্রথমে কফি ও পরে কোক খাওয়ার প্রস্তাব দেন। কফি আসতে দেরি হচ্ছে বলে দেয়া হয় কোক। কিন্তু সেই কোকের স্বাদ ছিল সন্দেহজনক।
ক্লাবের ভেতরে থাকা ‘মুরুব্বি’ গোছের একজন নিজের নাম নাসির উদ্দিন আহমেদ বলে জানান। বলেন, তারা কথাবার্তার এক পর্যায়ে তার মুখে মদের বোতল ঠেলে দেন। জিমিকে মারধর করেন ব্যাপকভাবে।
সঙ্গে থাকা জিমিকে নির্যাতন করা হয় বলেও আকার ইঙ্গিতে বলেন পরী। বলেন, এরপর তাকেও নানা আজেবাজে কথা বলা হয়েছে। এক পর্যায়ে সেখানে কী হয়েছে, সেটা তার মনে নেই। এরপর তিনি নিজেকে খুঁজে পান তার গাড়িতে। তখন তার গায়ের কাপড় ছিল ছেড়া ও ভেজা।
পরীমনির আশঙ্কা, যিনি তাকে কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই অমি এর সঙ্গে জড়িত। আর পুরোটাই পরিকল্পিত।
