বিনোদন ডেস্ক- শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন নায়িকা পরীমনি। রোববার রাত ১১টায় গণমাধ্যমের কাছে তিনি দুজনের নাম উল্লেখসহ ঘটনার কিছু বিবরণ দেন।
পরীমনি বলেন, ‘আমাকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টাকারীদের একজন রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাছির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন অমি নামের এক ব্যবসায়ী।’
তবে, তাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি তিনি।
পরীমনি বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টার দিকে আমাকে বিরুলিয়ার একটি ক্লাবে নিয়ে যায় অমি। সেসময় নাছির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।’
‘সেখানে নাছির ইউ. মাহমুদ আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত’, বলেন তিনি।
তবে, রোববার রাতে অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাছির ইউ. মাহমুদের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে বনানী থানায় গিয়েছিলেন উল্লেখ করে পরীমনি বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার অভিযোগ শুনলেও, লিখিত কোনো কাগজপত্র নেয়নি। থানা থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে পরে চলে আসি।’
তবে, বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিঞা রোববার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ তারা পাননি।’
এর আগে, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি।
এসময়য় পরীমনি জানিয়েছেন, গত চার দিন ধরে থানা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র বন্ধুদের কাউকে পাশে পাননি তিনি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতেও অভিযোগ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। যাদেরকে পেয়েছেন সবাই বিস্তারিত ঘটনা জেনে ‘দেখছি’ বলে চুপ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।
পরীমনির এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খানও।
এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘পরীমণি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চান তিনি।’ তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পরীমনি কতটা ভুক্তভোগী হয়েছেন বা ঘটনাটি কি সে বিষয়ে কিছু জানাননি জায়েদ খান।
তবে এটাই স্পষ্ট যে, জায়েদ খানসহ শিল্পী সমিতির কেউ কেউ ঘটনার প্রসঙ্গে অবগত আছেন।
