সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেড় মাস ধরে বন্ধ থাকার পর শনিবার (২২ মে) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক নারীর আর্থিক সহায়তায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (পানি শোধনাগার) দুটি মেরামত করা হলে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল থেকে রমেক হাসপাতালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ডায়ালাইসিস কার্যক্রম। ফলে রংপুর বিভাগের আট জেলার কিডনি রোগী চরম দুর্ভোগ পড়েন।
হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান মোবাশ্বের হোসেন রোববার (২৩ মে) জাগো নিউজকে বলেন, ২৬টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মধ্যে সার্বক্ষণিক ১২-১৪টি যন্ত্র চালু থাকে। তবে দুটি পানি শোধনাগার মেশিনের একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। অপরটিও গত দেড়মাস আগে পুরোপরি বিকল হয়ে পড়ে।
ফলে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ হয়। এ নিয়ে হাসপাতাল পরিচালকসহ বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দা আফরোজা বিউটি নামে এক নারীর আর্থিক সহায়তায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (পানি শোধনাগার) দুটি মেরামত করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নেফ্রোলজি বিভাগের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে ২৬টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মধ্যে বর্তমানে ১৮টি যন্ত্র চালু রয়েছে। বাকি ছয়টি যন্ত্র অনেক আগ থেকেই বিকল হয়ে রয়েছে। চালু ১৮টি যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীদের কিডনি ডায়ালাইসিস হতে দুটি পানি শোধনাগার দিয়ে বিশেষ পানি ব্যবহার হয়। পানি সরবরাহের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো চালু থাকে। কিন্তু পানি শোধনাগার যন্ত্র দুটি একই সঙ্গে বিকল হওয়ায় ৮ এপ্রিল থেকে ডায়ালাইসিস যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিন প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিনজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। এ ইউনিটে গড়ে প্রতিদিন ৩৫-৪০ রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস দেয়া হয়। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করেও ডায়ালাইসিস হয়। যন্ত্রগুলো বন্ধ হওয়ায় নিয়মিত রোগীগুলো বিপাকে পড়েন।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ কে এম নুরুন্নবী লাইজু বলেন, ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক নিকটাত্মীয়কে জানাই। তিনি মানবিক কারণে মেশিনগুলো মেরামতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন। ফলে শনিবার থেকে পুরোপুরি ডায়ালাইসিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
