১৫ বছরেও একটা হুইল চেয়ার কিনতে পারিনি খিজির উদ্দিন

নজর২৪ ডেস্ক- কুটিরশিল্পের উপকরণ বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চললেও আজ অবধি নিজের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনতে পারেননি খিজির উদ্দিন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার হুইলচেয়ার দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেনি। তবে হুইলচেয়ার না থাকলেও চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন অন্যের দান করা স্ট্রেচার।

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মৌজা মালিবাড়ি বর্মতট গ্রামের পা হারানো খিজির উদ্দিন (৭০)। চার ছেলে দুই মেয়ে সবার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় যে যার মতো আলাদা। তাই স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৬০) নিয়ে বৃদ্ধ বয়সেও টানতে হচ্ছে সংসারের বোঝা।

 

তবে এক পা না থাকলেও দমে যাননি খিজির উদ্দিন। বাড়িতে বসেই বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ।

 

সরেজমিনে বর্মতট গ্রামে দেখা হয় খিজির উদ্দিনের সঙ্গে। বাড়িতে বসেই বাঁশের তৈরি গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত ডালা, কুলা বানাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, বয়স হয়েছে, ঠিকমতো চোখে দেখি না। তা ছাড়া কানেও শুনি কম। কষ্ট করে বাঁশ দিয়ে ডালা, কুলা বানাই। দিনের মধ্যে তিন-চারটার বেশি বানাতে পারি না। তা বিক্রি করে সংসার চলে না। তাই লজ্জা ভুলে স্ট্রেচারে ভর করে পেটের দায়ে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করি।

 

কীভাবে পা হারালেন, এমন প্রশ্নের জবাবে খিজির উদ্দিন বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে ডান পায়ে একটা ছোট ফুসকুড়ি ওঠে। এটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে ঘা হয়। গ্রাম্য ডাক্তারসহ হাসপাতালে চিকিৎসা করেও সুস্থ হয়নি। একসময় ঘা হাঁটুর নিচে চলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে রংপুর মেডিকেলে গিয়ে অপারেশন করে পা কেটে ফেলি। সেই থেকে বাড়িতেই বেশির ভাগ সময় কাটে।

 

খিজির উদ্দিন বলেন, পা হারানোর আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। তখন সংসারও ভালো চলত। চার ছেলে ও দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি রাজমিস্ত্রির কাজ করে। এখন নিজেই অসহায়, পা হারিয়ে বুঝেছি জীবনের বাস্তবতা। গত ১৫ বছরে কিনতে পারিনি একটা হুইলচেয়ার। গ্রামের চেয়ারম্যান-মেম্বররা অনেকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন আমাকে একটি হুইলচেয়ার দেবেন বলে। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। বাধ্য হয়ে অন্যের দান করা স্ট্রেচারই এখন ভরসা।

 

এ ব্যাপারে লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাদল বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো বরাদ্দ নাই। তবে খোঁজখবর নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে হুইলচেয়ারের জন্য আবেদন করব।

 

খিজির উদ্দিনের বড় ছেলে রঞ্জু মিয়া বলেন, আমি নিজেই দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। ইচ্ছা থাকলেও মা-বাবার জন্য কিছু করতে পারি না। এই বয়সে স্ট্রেচারে ভর কর চলতে বাবার খুব কষ্ট হয়। অন্য কোনো সাহায্যের দরকার নাই। একটা হুইলচেয়ার পেলে খুব ভালো হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *