নজর২৪ ডেস্ক- দেশব্যাপী চলছে বোরো ধান কাটা উৎসব। সেই উৎবের আমেজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু জেলার দুটি গ্রাম ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে এতদিন ছিল না উৎসবের আমেজ। কারণ, গ্রাম দুটি যে পুরুষশূন্য! অবশেষে পুলিশের পাহারায় ফিরে এলেন তাদের জমিতে।
গত ১৭ এপ্রিল গ্রাম দুটিতে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন দুই গ্রামের প্রায় অর্ধশত এলাকাবাসী। সেই কারণে মামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে দুই গ্রাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পুলিশ প্রহরায় ধান কাটা উৎসবে মেতেছেন গ্রাম দুটির কৃষকেরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা পুলিশ প্রহারায় জমির ধান কেটে মাড়াই করে তাদের ঘরে তুলছেন। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকেও পুলিশ পাহারায় শুরু হয়েছে ধান কাটা। আর তা অব্যাহত থাকবে পাকা ধান জমিতে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত।
ভৈরব থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব থানার পক্ষ থেকে পুলিশ এলাকায় মাইকিং করে জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাড়া কোনো নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার বা হয়রানি করবে না। তাই যাদের জমির ধান পেকেছে, তারা যেন ধান কেটে ফেলেন। পুলিশ এ-ও জানায়, প্রয়োজনে পুলিশ কৃষকদের নিরাপত্তা দিয়ে পাকা ধান কাটার ব্যবস্থা করে দেবে।
বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির ধান কেটেছেন গ্রামের কৃষকেরা। ভৈরব থানা পুলিশ আরও জানায়, ধান কাটা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় প্রতিদিন ধান কাটা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, কৃষি বিভাগ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধান কাটার ব্যবস্থা করেছে। জমির মালিকরাও প্রশাসনের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে উপস্থিত থেকে ধান কেটেছেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যারা মামলার আসামি নন, তাদের কোনো ভয় নেই। কৃষি বিভাগের অনুরোধে পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে নিরাপদে ধান কাটছেন। যতদিন জমিতে পাকা ধান থাকবে, ততদিন পুলিশ উপস্থিত থেকে ধান কাটতে সহযোগিতা করবে।
