মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির ফরমের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মির্জাপুর কার্যালয়ে এসে বেশকিছু শিক্ষার্থী টাকা নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন, উপবৃত্তির ফরমের জন্য আমাদের কাছ থেকে ২০০ করে টাকা নিয়েছেন। বলেছেন, টাকা না দিলে উপবৃত্তি দেয়া হবেনা। কলেজের একাদশ শ্রেণি ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্য করে এ টাকা আদায় করেছেন অধ্যক্ষ।
তবে টাকা নেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের কোনো নামের তালিকা তৈরি করা হয়নি। এতে করে শিক্ষার্থীদের পরিবার ও কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির তিন বিভাগের ২৬০ ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ৩২ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য ফরম পূরণ করেছেন, যেজন্য তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ করে টাকা নেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের সাথে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ডিগ্রির কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি। তবে একাদশ শ্রেণির ৯৩ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ করে টাকা নিয়েছি।
কি কারণে টাকা নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, উপবৃত্তির ও অন্যান্য কাগজগুলা প্রিন্টার করছি, ফটোকপি করছি, বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে শিক্ষার্থীদের গার্ডিয়ানদের ফোন দিতে হয়, অনলাইনে কাজ করতে হয় এর পিছনে বহুদ খরচ হয়ে যায়, আমাদের কলেজের তেমন কোনো ফান্ডও নাই যে কলেজ থেকে খরচ বহন কইরা তাদের উপবৃত্তি দিবো, যার জন্য খরচ বাবদ নিছিলাম আরকি। কিন্তু নিয়াতো টিকতে পারলাম না।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদের সাথে যোগাযোগে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এ বিষয়ে খোজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ কলেজ দেখানোর কথা বলে একটি কক্ষে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এসময় ওই দুই ছাত্রীর চিৎকারে কলেজের পাশের বাড়ির এক ছাত্রীর মা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই দুই ছাত্রীর অভিভাবক তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। টাঙ্গাইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
দুই ছাত্রী ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় অভিযুক্ত হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। উপযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। ৩০ জুন বরখাস্ত হওয়ার একবছর পর পুনরায় কলেজে যোগদান করেন ওই অধ্যক্ষ।
