‘আপনার সন্তান যেন জামায়াত-হেফাজতের ফাঁদে না পড়ে’, এলাকায় মাইকিং

নজর২৪ ডেস্ক- কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় স্বাধীনতাবিরোধী তথা মৌলবাদী চক্রকে এখন থেকে মাঠে নামতে না দেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে নতুন করে হেফাজতে ইসলামকে মাঠে নামিয়ে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে আবারো অস্থিতিশীল করার পায়তারা শুরু করায় সেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চকরিয়া ও পেকুয়ার মাটিতে বরদাশত না করারও হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

 

এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোটর শোভাযাত্রা এবং একাধিক পথসভা করেছেন এমপি জাফর আলম।

 

এ সময় মোটর শোভাযাত্রার বহরটির সামনে মাইক লাগিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়াবাসী তথা পরিবারের অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান, কোন পরিবারের স্কুল, কলেজ বা মাদরাসায় পড়ুয়া সন্তান যাতে ইসলামের লেবাসধারী বিএনপি-জামায়াত বা হেফাজতসহ মৌলবাদী চক্রের পাঁতা ফাদে পা না দেয়। কোন সন্তান যাতে ইসলাম রক্ষার নামে কোন ধরণের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে সেদিয়ে খেয়াল রাখতে।

 

এমপি জাফর আলম বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ কর্ণারের’ সামনে থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রওনা দেন চকরিয়ার উত্তর সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হারবাংয়ে। সেখানে তিনি মাইকে উপরোক্ত ঘোষণা এবং সকল পরিবারের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শমূলক উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

 

এ সময় মহাসড়কের দুইপাশে সাধারণ জনতা হাত নেড়ে এমপি জাফর আলমকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এমপির গাড়ির বহরটি চকরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন খুটাখালীতেও প্রচারণা চালায়।

 

এমপির পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী এই প্রচারণা চালানোর সময় গাড়ির বহরে আওযামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতচক্রের কোনো স্থান নেই। জনগণের জানমাল, সরকারি সম্পদ, মানুষের বাড়িঘরে আগুন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর কোনো অপচেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। এরপরও কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে অতীতের চেয়ে ভয়াবহ।’

 

তিনি জানান, স্বাস্থবিধি মেনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা এবং একাধিক পথসভা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৩৯ কিলোমিটার সড়কে এ প্রচারণা চালানো হয়। দুই উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে সবার বাড়ি বাড়ি এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *