নজর২৪ ডেস্ক- হরতাল ও তার দুই দিন আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডবের ঘটনায় কোনো ধরনের মামলা না করার আবদার জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। বলেছে, মামলা হলে তারা আরও ‘কঠোর আন্দোলন’ করবে।
রোববার সহিংস হরতালের পর দিন সোমবার বিক্ষোভ ও দোয়া দিবসের কর্মসূচি দেয় কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠনটি। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কেন্দ্রীয়ভাবে পালিত হয় কর্মসূচি।
হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবীবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা নূরুল ইসলাম। সেখানে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী। তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
হেফাজত নেতা বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তাদের নামে দেয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আমরা শুরু হতে যাওয়া দাওরায়ে হাদিসের (কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ যাকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমান দেয়া হয়েছে) পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়ে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাব।’
দোয়া মাহফিলে হেফাজত নেতারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে সরকারদলীয় ‘সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর’ যৌথ হামলায় নিরীহ ১৭ জন কর্মী শাহাদত বরণ করেন।
তারা আরো বলেন, সরকার দলীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় পাঁচ শতাধিক হেফাজতকর্মী গুরুতর আহত হন। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জন নেতাকর্মীকে।
হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়র দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা আরো বলেন, অবিলম্বে যদি গ্রেফতারদের মুক্তি না দেয়া হয়, আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে সরকার, নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে হেফাজত অচিরেই কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কর্মসূচি পালনকালে ঢাকার বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাজহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারদলীয় বাহিনী ও পুলিশি হামলায় হতাহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বক্তরা।
