নজর২৪, ঢাকা- মেহমানকে আপ্যায়ন করা ইসলামের রীতি। যদি সে আপন পিতার হত্যাকারীও হয়। এটা ইসলামে সৌন্দর্য। কিন্তু মোদির বিষয়টি ভিন্ন। তার সহিংস অতীত এবং সম্প্রতি ভারতে ধর্মীয় সহিংসতা উসকে দিয়েছেন তিনি। এ রকম কাউকে বাংলাদেশে স্বাগত জানানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমন্ত্রিত সকল বিদেশি মেহমানকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। কিন্তু মোদিকে নয়। কারণ তিনি ধর্মীয় সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদির মতো উগ্র সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই মাইলফলকে উপস্থিত থাকা স্বাধীনতার মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। সেসব বিবেচনায় আমরা নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুন্দরভাবে প্রতিবাদ আমরা আগেও করে আসছি, এখনো করছি। দেশের নাগরিকদের মাঝে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে বলবো, নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র প্রত্যাহার করে নিন। অন্যথায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একজন উগ্র সাম্প্রদায়িক নেতার দ্বারা কলঙ্কিত করার দায় আওয়ামী লীগকে বহন করতে হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ দেশে বসবাস করি। আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। এটা বাস্তবায়নের কাজ সরকারের।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই আনন্দমুখর মুহূর্তে সরকার দেশের রাজধানীতে সকল প্রকার সম্মিলিত ও প্রকাশ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কেবল রাষ্ট্রীয় এবং সরকারদলীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মুহূর্তে এমন নিষেধাজ্ঞা স্বাধীনতার মৌলিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা মানুষের রক্তে কেনা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপনে সরকারের এমন বিধিনিষেধের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সকল বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান করছি।
