প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে ইয়াবা সেবন করেন প্রধান শিক্ষক!

নজর২৪, লক্ষ্মীপুর- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ আলমকে ইয়াবা সেবনের সময় হাতেনাতে আটক করেছে এলাকাবাসী।

 

গত ২০-২৫ দিন প্রতিরাতে বিদ্যালয়ে এসে নিজ কক্ষে তিনি ইয়াবা সেবন করতেন। এটি বুঝতে পেরে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া শর্তে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাসুদকে ছেড়ে দেয়।

 

এদিকে ঘটনার পর থেকেই ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ মাসুদ আলমের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরিচালনা কমিটির জরুরী সভা করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বিএসসি।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০-২৫ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক মাসুদ প্রতি রাতেই বিদ্যালয় এসে নিজ কক্ষে সময় কাটান। এটি স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে এলাকাবাসী আগ থেকেই সচেতন ছিলেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে মাসুদ বিদ্যালয়ে এসে নিজকক্ষে ঢুকে ইয়াবা সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে হাতেনাতে ইয়াবা সেবনকালে (মাসুদ) আটক করে।

 

বিষয়টি তাৎক্ষণিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। পরে বিদ্যালয়ের সম্মানের বিষয় বিবেচনা করে সভাপতি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় মাসুদ এ বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার আশ্বাস দেয়।

 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বিএসসি বলেন, আমাকে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন কল দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে আপাতত তাকে ছেড়ে দিতে বলেছি। পরিচালনা কমিটির বৈঠকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মাসুদ আলমকে ফোন দিলে তার সহধর্মীনি কল রিসিভ করেন। তার সহধর্মীনি জানান, মাসুদ ফোন রেখে ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। কল কাটার পর থেকে তার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।

 

উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।

 

তবে এ ব্যাপারে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ জানান, ঘটনাটি আমাকে কেউ জানায়নি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহসিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল গিয়েছি। তবে এর আগেই এলাকাবাসী অভিযুক্তকে ছেড়ে দিছে। এ কারণে আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *