নজর২৪, ঢাকা- নজর২৪, ঢাকা- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ‘এক চোখ কানা, এক কান টসা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সিইসি’র কড়া সমা’লোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘এই যে প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নূরুল হুদা, উনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীকে শুধু দেখতে পান। কিন্তু জনগণ, ভোটার, নির্বাচন, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, কারচুপি-জালিয়াতি, দিনের ভোট রাতে- এগুলো উনি দেখতে পান না। এগুলো যদি উনি দেখতে পেতেন তাহলে নির্বাচন ব্যবস্থা যে ধ্বংস হয়ে গেছে, ভোটাধিকার যে হরণ হয়ে গেছে, দেশে এ অবস্থাটা আজ হতো না।’
সোমবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ফজলুল হক মিলন বলেছে গতকাল শ্রীপুরে বিএনপির প্রার্থীকে কু’পিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার মতো অবস্থা করেছে। শুধু তাই নয় ২০১৮ সালে এরা কত বড় কাপুরুষ, এরা কত বড় দুর্বৃত্ত যে এরা একজন নারীকে গু’লি করে চোখ অন্ধ করে দিয়েছে সিরাজগঞ্জে। কিন্তু তখনও গুরুত্ব দেননি এত বড় নির্লজ্জ এ নির্বাচন কমিশনার।
বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, কাপড় বিক্রেতা শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করে, সবজি বিক্রেতা আলু, টমেটো-বেগুন বিক্রি করে। পতিতা দেহ বিক্রি করে আর কে এম নুরুল হুদা আত্মা বিক্রি করেছে শেখ হাসিনার কাছে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার প্রার্থীরা, দেশের সব জায়গার প্রার্থীরা জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঢুকছেন, দুর্বত্তরা ঢুকছেন এসমস্ত ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। উনি নির্বাচন কমিশন কত বড় নির্লজ্জ আত্মা বিক্রি কারী উনি ৩১ ডিসেম্বর বললেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে সঠিক হয়েছে।
রিজভী বলেন, যে লোক খারাপ সে সবদিক দিয়ে খারাপ। যে আত্মা বিক্রি করতে পারে যার আত্মা নেই, যে সত্য কথা বলতে পারে না সে টাকাও চুরি করতে পারে। তার কমিশনের বিরুদ্ধে টাকা চুরি করার অভিযোগ করেছে দেশের ৪১ জন বুদ্ধিজীবী এটা তিনি পাত্তাই দেননি। কারণ ক্ষমতা দরকার আর শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এরকম নির্বাচন কমিশন দরকার।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা তাদের নিজস্ব আইন আছে। নিজস্ব আইনে তাদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন করার। কিন্তু কে এম নুরুল হুদা তিনি তো দস্তখত করেছেন। তিনি তো মুচলেকা দিয়েছেন শেখ হাসিনার কাছে যে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেবেন না তাই তিনি দেননি।
এছাড়াও বিচার বিভাগে কালো মানিকদের মতো লোক বসানো হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার তিনি তাই করেছে আর তার জন্যই তিনি এসব লোকদেরকে এসব স্থানে বসিয়েছেন। শেখ হাসিনার যা যা দরকার এরা তাই করবে। যদি কেউ বিদ্রোহ করে কেউ যদি সত্য কথা বলে, তাহলে প্রধান বিচারপতি সিনহা সাহেবের যে পরিণীতি সেই পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাই কেউ আর সত্য বলার সাহস করছেন না।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা নুরুল হুদার কথা বলছি তিনি তো শেখ হাসিনা চাকর-বাকরদের নিয়ে বসেছে। কিন্তু গণতন্ত্রের হ’ত্যাকারী কে? দেশের শত্রু কে? দেশের সার্বভৌমত্বের শত্রু কে? স্বাধীনতার শত্রু কে? সুষ্ঠু ভোটের শত্রু কে? শেখ হাসিনা। তার পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। তার পদত্যাগ নিশ্চিত করলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে। সুষ্ঠু ভোট হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হবে।
