অবশেষে মামুনুল হক মাহফিলে না আসার কারণ জানালেন বাবুনগরী

নজর২৪ ডেস্ক- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা মামুনুল হক শান্তি বজায় রাখতে মাহফিলে যাননি বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।

 

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) রাতে হাটহাজারীর পার্বতী হাই স্কুল মাঠে আল আমিন সংস্থা আয়োজিত একটি মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মামুনুল হকের।

 

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক তোলা মামুনুল হককে যেকোনো মূল্যে ‘প্রতিহত’ করার ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ। দিনভর এটি নিয়ে ছিল তুমুল উত্তেজনা।

 

তবে মামুনুল হক মাহফিলে আসছেন না— নিশ্চিত করে সন্ধ্যায় হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘মামুনুল হক আসার কথা ছিল। যখন সরকার প্রশাসন আমাকে বলেছে… বুঝিয়ে বলেছেন, শান্তির সহিত। আমরা পরামর্শ করলাম, আবার এই খবর আগে ভাগে মামুনুল হকের কানে চলে গেছে। উনি বলেছেন আমি ছাড়াও মাহফিল হবে। আবার এই মাহফিল ছাড়াও আমার হাজার হাজার মাহফিল আছে। উনি নিজেও আগ্রহী নয়।’

 

গোজামিল দেখে মামুনুল হক ফিরে গেছেন— এমন কথা উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, ‘এখানে কিছু গোজামিল দেখিয়া… গোজামিলে আমরা নাই। উনি নিজেই ফিরিয়া গেছেন। চলে গেছেন। মাহফিলে আর আসবেন না।’

 

মামুনুল হক মাহফিলে আসবেন না— এটি প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ‘ফাইনাল’ করা হয়েছে দাবি করে বাবুনগরী বলেন, ‘আপনাদের কথা মতো আমরা চলতেছি। প্রশাসনের সাথে আমরা পরামর্শ করি। সরকারের অফিসাররা আমাদের সাথে পরামর্শ করে সব কিছু ফাইনাল হয়ে গেছে— আসবে না। আবার তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে, তাকে অপমান করা হয়েছে, এর কারণ কী?’

 

তিনি বলেন, ‘বোলার বাত ডিল ন মারিস (মৌচাকে ঢিল মেরো না)। সিদ্ধান্ত হয়েছে আসবে না। তারপরও এরকম জুলুম নির্যাতন কেন করা হল। প্রশাসনকে বলবো, যারা এসব করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। ওস্তাদেরকে বেইজ্জতি করলে মাদ্রাসার ছাত্ররা বসে থাকতে পারে না।’ বলেন বাবুনগরী।

 

হাটহাজারীর পার্বতী হাই স্কুল মাঠের মাহফিলে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে ভালবাসি। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবাসি। আমরা আপনার দুশমন নই। আমাদের দুশমন মনে করবেন না। আপনার পিছনে যে নাস্তিক মুরতাদ ঘাপটি মেরে বসে আছে তারাই আপনার দুশমন।’

 

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন আলেম ওলামারা মারেন নাই, মেরেছে বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকা লোকজন। আমি আশংকা করতেছি আপনার পিছনে থাকা নাস্তিক মুরতাদেরা আপনার ক্ষতি করবে।’

 

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘যদি প্রিয় নবীর শানে কোন বেয়াদবি করা হয়, কোন রকম অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয় এদেশের মুসলমানরা তাদের জিহ্বা কেটে ফেলবে। তিনি বলেন, যতক্ষনণ ফ্রান্সের ম্যাক্রো সকল মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইবে না,ততক্ষণ পর্যন্ত এদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস থাকতে পারবেনা। দূতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিস্কার করতে হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদে ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে।’

 

উল্লেখ্য, চলতি মাসের মাঝামাঝি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বিরোধীতা করে বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন মামুনুল হক। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে মামুনুল হককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি শুক্রবার তাকে প্রতিহত করার কথা জানান চট্টগ্রামের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

 

মামুনুলকে রুখতে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে সড়কের ওপর অবস্থান নেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চু এতে নেতৃত্ব দেন। পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

 

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ ইস্যুতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে মামুনুল হকের চট্টগ্রামে আসা নিয়ে নানাধরনের গুঞ্জন তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মামুনুলের অবস্থান নিয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *