রংপুরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে রাঙ্গার ফেস্টুন

সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আগামী বুধবার (২ আগস্ট) আওয়ামী লীগের বিভাগীয় মহাসমাবেশে বক্তব্য দেবেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে পুরো নগরী। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ফেস্টুন ঝুলিয়েছেন রংপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ (জাপা থেকে বহিষ্কৃত নেতা) মসিউর রহমান রাঙ্গাও। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সাঁটানো রাঙ্গার ফেস্টুন নিয়ে নগরী জুড়ে চলছে নানান আলোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ খোদ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে একটা বিষয় চাউড় হয়েছে যে, রাঙ্গা ওই মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেবেন। অনেকে আবার বলছেন, তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ারও ঘোষণা দিতে পারেন।

এ ব্যাপারে জাপা দলীয় সংসদ সদস্য রাঙ্গার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রংপুর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে ব্যানার ফেস্টুন লাগানোর ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তবে মহাসমাবেশে তার উপস্থিতি এবং বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবকিছু সময়ই বলে দেবে।

রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মাঠ থেকে শুরু করে ক্যান্টনম্যান্ট চেকপোস্ট পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে রাঙ্গার ছবি সম্বলিত ফেস্টুনে সয়লাব হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার ভোরে এসব ফেস্টুন লাগানো হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। ফেস্টুনের বামপাশে জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের ছবি এবং ডান পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় ছবি; আর নিচে মসিউর রহমান রাঙ্গার একটি বড় ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ফেস্টুনে রংপুর-১ আসন গঙ্গাচড়া এলাকায় অভাবনীয় উন্নয়ন যজ্ঞ করার রূপকার হিসেবে অভিনন্দন জ্ঞাপনসহ আরও কিছু কথা যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে সাঁটানো ফেস্টুন নিয়ে নগরীতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিকভাবে রাঙ্গার এভাবে শুভেচ্ছা জানানোর পেছনে ‘অন্য কোনও কারণ’ আছে কিনা; এসব নানান বিষয়ও আলোচিত হচ্ছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, রাঙ্গা আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন বলে মনে হচ্ছে। তারই আলামত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে ফেস্টুন লাগানো।

শাহ আলম নামে এক রিকশা চালক বলেন, রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি।আগামী নির্বাচনে রংপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দল তাকে বহিষ্কার করেছে। রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টি অনেক দিয়েছে। তাকে দলের মহাসচিবও করা হয়েছিল। কিন্তু দলের দেওয়া সম্মান তিনি রক্ষা করতে পারেননি। তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি রংপুরে স্বাগত জানাতেই পারেন। কিন্তু ফেস্টুনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও বর্তমান মহাসচিব চুন্নু সাহেবেরও ছবি থাকা উচিত ছিল। এর মাধ্যমে (তাদের ছবি না দিয়ে) তিনি দলকে অসম্মানিত করেছেন।

অন্যদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন দলে তার কোনও পদ নেই। তবে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের পুত্রবধু। তাকে স্বাগত জানিয়ে ফেস্টুন দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোকে আমি অন্যভাবে নিতে রাজি না। এটা উনি করতেই পারেন। তবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোনও দায়িত্বশীল নেতাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে তো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলীয় চিফ হইপ আছি। ফেস্টুনে দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ছবি দেইনি। কারণ দল থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলে থাকলে তাদের ছবিও দিতাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনি এলাকা রংপুর-১ আসন গঙ্গাচড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সেখান থেকে মঙ্গা চিরদিনের জন্য বিতারিত হয়েছে। তার প্রতি গঙ্গাচড়াবাসী অনেক কৃতজ্ঞ। আছে সে কারণে তাকে স্বাগত জানিয়ে ফ্যাস্টুন লাগিয়েছি। আগামী ২ আগস্ট রংপুরে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে তিনি যোগ দেবেন, বক্তব্যও দিতে পারেন- এমন কথা চাউড় হয়েছে; বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এটা সময়ই বলে দেবে।

এসএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *