সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সোনা মিয়া হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন নিহতের ছেলে। বুধবার দুপুরে কাউনিয়া থানায় নিহত সোনা মিয়ার ছেলে আখতারুজ্জামান সোহেল বাদী হয়ে ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলা নং ০৯/২৩। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোন্তাছের বিল্লাহ।
মামলায় কাউনিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে ১নং আসামি, তার বড় ভাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রাজু আহমেদকে ২নং আসামি এবং মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে শহিদুল ইসলামকে ৩নং আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনে আটক ৬ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এই মামলায়।
আটকরা হলেন- হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক মোজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবীব, হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মকবুল সালাম, বালাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল জলিল, আব্দুল গফ্ফার, খানসামাহাটের দোকানদার মাইদুল ইসলাম হুজুর। এদিকে বুধবার বিকেল তিনটায় রংপুর নগরীর স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সোনা মিয়ার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান বলেন, গত ২৪ এপ্রিল সোমবার বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনসি এমপি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য হারাগাছ ইউনিয়নের খানসামা ঈমামগঞ্জ স্কুল মাঠে আসেন। সে সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম মায়া’র নামে শ্লোগান দেয়। সেখানে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মাজেদ আলী বাবুলের নামে শ্লোগান না দেয়ায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং ইউপি চেয়ারম্যান রাজুর নেতৃত্বে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটিয়ে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান পণ্ড করে। পরে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে আবারো আব্দুর রাজ্জাক ও রাজু’র নেতৃত্বে খানসামার বাজারে হামলা চালিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সোনা মিয়াকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
অন্যদিকে নিজের নাম জরিয়ে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অধ্যাপক মাজেদ আলী বাবুল জানান, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা থেকে তাকে নিয়ে নোংরামী চলছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি হত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করা হচ্ছে। যা সভ্য সমাজের জন্য কাম্য নয়। তিনি আরো বলেন, ২০০১ সাল থেকে মাননীয় বানিজ্যমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনসি এমপির সাথে আছেন। ঘটনার সময় মন্ত্রীর সাথেই ছিলেন। তবে যতই অপচেষ্টা চালাক না কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেয়া দায়িত্ব থেকে কেউ টলাতে পারবে না।
গত সোমবার দুপুরে ঈদ উপলক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য টিপু মুনশি শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য উপজেলার ইমামগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আসেন। সে সময় শ্লোগান দেয়া কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু-গ্রুপের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় গ্রুপের নেতা কর্মীরা। পরে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন রাত আনুমানিক আটটার দিকে খানসামা হাট ইমামগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ মাঠের রাস্তায় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে চিৎকার দিতে দিতে অপর গ্রুপের লোকজন কে খুঁজতে থাকে। এসময় নাতনি কে আইসক্রিম খাওয়াতে ইমামগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ কলোনী বাজারে আসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সোনা মিয়া। তাকে দেখতে পেয়ে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনা স্থলেই প্রাণ হারায় সোনা মিয়া। নিহত সোনা মিয়া নাজিরদহ নয়াটারী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
এসএইচ
