নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অযত্ন অবহেলায় স্মৃতিস্তম্ভটি এখন পরিত্যাক্ত প্রায়।
শহীদদের স্মৃতি ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ১৭৮ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও জাদুঘর।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার বাবু পাড়া সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয় দেবীগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসানকে স্মৃতিস্তম্ভটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু নজরদারি এবং যত্নের অভাবে তা পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগারে।
জাতীয় বিভিন্ন দিবসেও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় না দেবীগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, দেওয়া হয় না কোন ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় রাতের আঁধারে দেবীগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে উঠে মাদক সেবীদের অভয়াশ্রম। এছাড়া দিনের বেলায় সেখানে কাপড় ও খড়ি শুকাতে দেওয়া হয়। স্মৃতি স্তম্ভের চারদিকে ফেলা হয় বাসা বাড়ির এবং পাট প্রক্রিয়াজাত কারখানার ময়লা আবর্জনা। এতে করে দেবীগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এছাড়া ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের বিভিন্ন অংশ ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভটি ওই জায়গায় কিভাবে নির্ধারিত হয়েছে আমি জানিনা।
তবে যেহেতু স্থাপনাটিকে লিখিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ মর্যাদা দেয়া হয়েছে সেহেতু সেটির যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। আমরা অতি দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করার পদক্ষেপ নিবো।
দেবীগঞ্জের যে স্থানটিতে মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি নেই সেই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধের ৬ নং সেক্টর এর অধীনে যুদ্ধ করা কম্পানি কমান্ডার এ.কে ভুঁইয়া জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি এখানে কিভাবে কার পরামর্শে করা হলো তিনি জানেন না। এখন যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভটি করা হয়েছে সেহেতু এটির যথাযথ মর্যাদা দেয়া উচিত। এখানে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিনত হয়ে থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম ফেরদৌস বলেন, এটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বে থাকার কথা। পরিচ্ছন্নতা রক্ষার বিষয়টি পৌরসভার অধীনে বলে জানান তিনি।
দেবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবু বকর সিদ্দীক বলেন, আসছে বিজয় দিবসে আমরা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করব। রাতে সেখানে আলোর ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন পৌর মেয়র। তবে সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি উপজেলা পরিষদের এখতিয়ারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি মুক্তিযুদ্ধের এই স্মৃতিস্তম্ভটির আশু সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
