Home আলোচিত ছোট একটা বিষয়কে বড় করা হয়েছে: মীর সাব্বির

ছোট একটা বিষয়কে বড় করা হয়েছে: মীর সাব্বির

0
924

কথায় আছে ‘এক দেশের গালি, আরেক দেশের বুলি’। সবাই জানেন, বরিশালের মানুষদের অঞ্চলিক ভাষাগুলোর একটি ‘মাতারি’। যা তারা মহিলাদেরকে বলে থাকে। মাতা (জননী) থেকেই এসেছে ‘মাতারি’ শব্দটি। আর তা বলে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মীর সাব্বির।

ঘটনা গত ১১ নভেম্বর ‘মিসেস ইউনিভার্স ২০২২’-এর গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে। সেখানে উপস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন ইসরাত পায়েল। আর এই প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন মীর সাব্বির। চূড়ান্ত পর্বের আয়োজনে বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠেন মীর সাব্বির। সেখান থেকে নামার ঠিক আগ মুহূর্তে উপস্থাপিকা পায়েল তাকে অনুরোধ করেন, আঞ্চলিক ভাষায় একটি সংলাপ বলার জন্য। আর মীর সাব্বিরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে এটাও সবার জানা।

যাই হোক, উপস্থাপিকার অনুরোধে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমার নাটকের সংলাপ এখন মনে পড়ছে না।’ এরপর খানিকটা সময় নিয়ে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় পায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই মাতারি তুমি এইরহম উদলা গাইয়ে দাঁড়ায় আছো কিয়ের লাইগ্যা।’

তার এই সংলাপ শেষ হওয়ার পর হাসতে থাকেন পায়েল। মঞ্চের সামনে বসা অতিথিরাও সমস্বরে হেসে উঠেন। কিন্তু ঘটনা মোড় নেয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এর একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ নিয়ে। মঞ্চে বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দিলেও সবার সামনে সাব্বিরের এমন সংলাপ শুনে মাইন্ড করেছেন উপস্থাপিকা। এই সংলাপকে ‘কুরুচিপূর্প’ সংলাপ বলেও মন্তব্য করেছেন পায়েল।

পরবর্তীতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক একটি মঞ্চে এসে পোশাক নিয়ে কথা বলাটা কুরুচির লক্ষণ। এই বিষয়ে মীর সাব্বিরের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

বিষয়টি নিয়ে শুরুতে নীরব থাকলেও এবার সরব হয়েছেন মীর সাব্বির। আত্মপক্ষ সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার নিজের ফেসবুকে সাব্বির লিখেছেন, ‘এক দেশের গালি আরেক দেশের বুলি। গত ১১ নভেম্বর মিসেস ইউনিভার্সের একটি প্রতিযোগিতায় আমি অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি কথা নিয়ে প্রসঙ্গক্রমে উপস্থাপিকা দুই-একটি কথা বলেছেন। মঞ্চে আমার সঙ্গে কথা বলার পর দেখলাম, ওই উপস্থাপিকা তার বরাত দিয়ে দুই একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোনও করেছেন।’

এরপর সাব্বির লেখেন, ‘মূল বিষয়টা ছিল, মানে বলতে পারেন তেমন কিছুই না। একটা ছোট্ট বিষয়কে হঠাৎ করে বড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। উপস্থাপিকা মজার ছলে আমার বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা শুনতে চেয়েছেন। যেহেতু আমি বরিশালের ছেলে। আমি যে কথাটা বলেছিলাম, সেটা উপস্থাপিকা চমৎকারভাবে হেসে রিসিভ করেছেন এবং দর্শকরা তখন মজা পেয়েছেন। আমি যেটা বলেছি সেটা তাৎক্ষণিক এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে হেয় করার জন্য কিছু বলিনি। সেটা নিশ্চয়ই সকলেই অর্থাৎ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পেরেছেন।’

এ সময় এই অভিনেতা লিখেছেন, ‘উপস্থাপিকা যে আমার ছোট বোনের মত। তিনি যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করতেই পারি। সেটা নিয়ে এভাবে ফেসবুক কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়ে ছড়ানোর কিছু নেই। আমাকে বললেই পারত, দাদাভাই কিংবা ভাইয়া আপনাকে আমি রেসপেক্ট করি। আপনার কথায় আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি তখন হয়তো বলতাম, সরি তুমি কষ্ট পেও না। আমি তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য কথাটা বলিনি। কারণ তুমি আমার শব্দের মানে বুঝতে পারোনি। বিষয়টা শেষ হয়ে যেত।’

সবশেষে সাব্বির আশা করেন, অন্যদের মতো আমার ইশরাত পায়েল তার সম্পর্কে ধারণা বদলাবেন। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে ইশরাতে যত অভিমান আছে সেসবও ভুলে যাবেন। এ সময় সাব্বির তার ভক্ত অনুরাগীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here