আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সারাদেশে নিজেদের কার্যক্রম জোরদার করতে যাচ্ছে কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রীক ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সভা, সমাবেশ, সম্মেলন, নতুন কমিটি গঠন, পূনর্গঠন এবং দেশব্যাপী নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জানান দেওয়ার হবে বলে হেফাজতে ইসলামের অভ্যান্তরীন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সোমবার হেফাজতে ইসলামের হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা কথা থাকলেও সভা শেষে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন সংগঠনটির নেতারা।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষন করে হেফাজতে ইসলাম সারাদেশে কার্যক্রম আরও জোরদার এবং বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরে ঢাকায় বৃহৎ আকারে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, ‘গত কয়েকমাস আমাদের কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ ছিলো। এখন সারা দেশেই কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে গতকাল সোমবারের বৈঠকে।’
তিনি আরও বলেন, হাটহাজারী মাদরাসায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হোফজতে ইসলামের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, নায়েবে আমীর মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলিল, মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা মীর ইদরীস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবাহানী, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার, মাওলানা রাশেদ বিন নূর।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহনগর কমিটি সম্প্রসারণ এবং পুনঃবিন্যাস করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী ও কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানীকে যুগ্মসচিব করা হয়।
এছাড়াও মুফতী কিফায়েতুল্লাহ আযহারীকে প্রচার সম্পাদক ও মাওলানা রাশেদ বিন নূরকে দফতর সম্পাদক করা হয়। অন্যদিকে মাওলানা তাজুল ইসলামকে আহবায়ক এবং মাওলানা লোকমান হাকিমকে সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকে ব্যক্তি উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো কাজে হেফাজতের পদ-পদবি ব্যবহার না করার জন্য হেফাজত আমীর সব দায়িত্বশীলদের সতর্ক করেন।
এছাড়া সারা দেশে জেলা কমিটি গঠন করার জন্য মহাসচিব সাজিদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি গঠন করা হয়। এতে আরও আছেন- মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা মীর ইদরীস, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী ও মুফতী কিফায়েতুল্লাহ আজহারী।
কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা আবদুল বাসির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহাদত হোসেন (রাঙ্গুনিয়া), মাওলানা খোবাইব, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আবদুল কাদের (আমলাপাড়া), মাওলানা ইউনুস (রংপুর), মাওলানা শওকত হোসেন সরকার (নরসিংদী), মাওলানা সাঈদ নূর (মানিকগঞ্জ), মাওলানা আকরাম আলী (ফরিদপুর), মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), ড. নুরুল আবসার আজহারী, মাওলানা তৈয়ব হালীম, মুফতি মাসুদুল করীম, মাওলানা নূরুর রহমান বেগ (বরিশাল), মাওলানা নিজামদ্দীন (নোয়াখালী), মাওলানা আবদুল মা’বুদ (বাগেরহাট), মাওলানা মুসলিম (কক্সবাজার), মাওলানা বোরহান উদ্দীন কাসেমী, মাওলানা আনওয়ার চকরীয়া, মাওলানা কেফায়েতউল্লাহ (টেকনাফ), মাওলানা ইয়াহহিয়া (নাজিরহাট), মাওলানা শাসমুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা আব্দুল্লা (পোরশা), মাওলানা শরিফ (ঠাকুরগাঁও), মাওলানা তাফহিমুল হক (হবিগঞ্জ), মাওলানা জুনাইদ বিন ইয়াহিয়া এবং মাওলানা রাশেদ বিন নূর।
