বিএনপির সমাবেশের আগে বরিশালে দুই দিনের বাস ধর্মঘটের ডাক

বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ নভেম্বর বরিশালে বিভাগীয় গণসমাবেশ ডেকেছে দলটি। কিন্তু সমাবেশের ১০ দিন আগে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতি। সমাবেশের আগের দিন শুরু হবে ৪৮ ঘণ্টার এই ধর্মঘট।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে।

মহাসড়কে নসিমন, করিমন ও থ্রি হুইলারসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতি।

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বুধবার দুপুরে বলেন, এই দাবিতে মঙ্গলবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

“৩ নভেম্বরের মধ্যে যদি দাবি মানা না হয় তাহলে ৪ ও ৫ নভেম্বর বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।”

এর আগে গত ২২ অক্টোবর খুলনার বিভাগীয় গণসমাবেশের আগেও সেখানকার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা একই দাবিতে বাস ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে দুদিন ধরে বাস বন্ধ থাকায় গণসমাবেশমুখী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি চাকরিজীবী, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

পরিবহন মালিক সমিতির ডাকে বাস ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছিল ১৫ অক্টোবরের ময়মনসিংহের বিভাগীয় গণসমাবেশের আগেও।

বিএনপি একে ক্ষমতাসীন দলের ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করলেও আওয়ামী লীগের দাবি, তারা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

অপরদিকে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন দাবি করে, তাদের ডাকা ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির গণসমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে এ ধরনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তবে নেতা-কর্মীরা বলছেন, সমাবেশ সফল করার জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বরিশালে এবং বিভাগের জেলা ও উপজেলাগুলোতে প্রস্ততিমূলক সভা করছেন। এ সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। বাস কিংবা গণপরিবহন বন্ধ করে মানুষের উপস্থিতি ঠেকানো যাবে না।

বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধের আবেদন করা হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। এটা করা হবে, সেটাও আমরা নিশ্চিত ছিলাম। কারণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং সর্বশেষ খুলনায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে সরকার গণসমাবেশ বানচাল করতে চেয়েছিল। এমনকি লঞ্চ, ট্রেন, ভাড়ায়চালিত মাইেক্রাবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা, ব্যাটারিচালিত যান এবং খেয়া পর্যন্ত বন্ধ করার মতো বিরল নজির এই অবৈধ সরকার স্থাপন করেছে। কিন্তু জনগণকে ঠেকানো যায়নি। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো মানুষ পায়ে হেঁটে কিংবা যে যেভাবে পেরেছে, সমাবেশে হাজির হয়েছে। ৫ নভেম্বর বরিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’

তবে বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মহাসড়কে যাত্রী ও পরিবহনের নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা করা হয়েছে। এই দাবিতে অনেক আগে থেকেই তাঁরা আন্দোলন করে আসছেন। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *