মরিয়ম মান্নানের মাকে ফরিদপুর থেকে জীবিত উদ্ধার

খুলনার মহেশ্বরপাশায় নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বোয়ালমারী থানার ওসি আব্দুল ওহাব জানান, খুলনা মহানগর পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাঁর থানা এলাকা থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে। তাকে খুলনায় পাঠানো হচ্ছে।

গত ২৭ আগস্ট রাতে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকায় পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নামেন রহিমা বেগম। ঘণ্টা পার হলেও তিনি বাসায় ফেরেননি। পরে মায়ের খোঁজে সন্তানেরা নিচে নেমে তাঁর ব্যবহৃত স্যান্ডেল, ওড়না ও কলস রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। রাতে সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেও না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে খুলনা মহানগরের দৌলতপুর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মরিয়ম মান্নান। এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তরের আদেশ দেন আদালত। এরপর প্রক্রিয়া মেনে ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।

এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার বহরদার বাজারে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার হয়। দুই দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর মরদেহটি দাফন করা হয়। এর আগে ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়। ডিএনএ টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় আলামতও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মরদেহটি খুলনা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগমের (৫২) বলে দাবি করেছেন তাঁর মেয়ে মরিয়ম মান্নান। এরপর উদ্ধারকৃত নারীর পোশাক ও আলামত দেখে দাবি করেন, মরদেহটি তাঁর মায়ের। মায়ের মরদেহের খোঁজে চার বোন— মরিয়ম মান্নান, কানিজ ফাতেমা, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় পৌঁছান। ডিএনএ টেস্টের জন্য ফুলপুর থানায় আবেদন করেন মরিয়ম মান্নান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *