সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামার আগে নিজের ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশ নারী দলের ফুটবলার সানজিদা আক্তার। যেখানে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে’।
সেই ম্যাচে দাপুটে জয়ের মাধ্যমে দেশের পক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়ান ট্রফি বাগিয়ে নেন সানজিদারা। সেই থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাদখোলা বাস।
বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠে সাফ বিজয়ী নারীদের দেশে ফেরার সময় সংবর্ধনার জন্য একটি ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করার। দাবির মুখে গতরাতেই যুব ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছাদখোলা বাস না পেলে প্রয়োজনে ট্রাক সাজিয়ে নিবেন মেয়েদের স্বাগত জানাতে’।
এ নিয়েও চলে সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই পরামর্শ উঠে আসে কক্সাবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে পর্যটকদের নিয়ে চলাচলকারী একোয়াটিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভেন আনার।
জানা যায়, বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল মন্ত্রণালয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই কথাবার্তা আর না এগিয়ে শুরু হয় বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাস কাটার আয়োজন।
মঙ্গলবার বিকেলে নিজেদের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে একোয়াটিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভেন জানায়, তারা নিজেদের গাড়ি ঢাকায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয় বিআরটিসি বাস পাওয়ায় তাদের ছাদখোলা বাসটি আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
স্ট্যাটাসে বলা হয়, সাফ চ্যাম্পিয়ন ২০২২ বাংলাদেশ নারী ফুটবল টিমের ছাদখোলা বাসে অভ্যর্থনার ইচ্ছে পূরণে এবং দেশের সার্থে Aquaholic Tourist Caravan ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু হঠাৎ জানতে পারলাম যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে একটি BRTC দোতলা বাস প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাই Aquaholic Tourist Caravan এর আর প্রয়োজন হচ্ছে না। পরবর্তীতে দেশের এমন প্রয়োজনে Aquaholic Tourist Caravan সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। আবারও অভিনন্দন সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল টিমকে। ধন্যবাদ বাফুফে।
মঙ্গলবার (২০) সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যানের ম্যানেজার মুজিবুর রহমানও। তিনি বলেন, নারী সাফ চ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নিতে আমাদের অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট বাস (ছাদখোলা) ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে সিদ্ধান্ত না হাওয়ায় আর যায়নি।
বাসটি এই মুহূর্তে কোথায় আছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়িটি (ছাদখোলা) এই মুহূর্তে কক্সবাজারের উখিয়ার সোনাপাড়ায় আমাদের নিজস্ব গ্যারেজে রয়েছে। অফ সিজন ও বৃষ্টির কারণে গাড়িটি বন্ধ রয়েছে। যদি আমাদের গাড়িটা নিয়ে যেত তাহলে আমরাও খুশি হতাম। কারণ আমরাও ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারতাম।
