আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি থেকে পদত্যাগ করেছে হাইকোর্ট থেকে গঠিত সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড। আগামীকাল বুধবার তাদের এ পদত্যাগপত্রের আবেদন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) পরিচালনা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা পদত্যাগ করেছি। আগামীকাল আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করব। এরপর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। এরপর ১৮ অক্টোবর ইভ্যালি পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অন্য সদস্যরা ছিলেন—স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মাহবুব কবীর মিলন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।
গত ১০ আগস্ট ইভ্যালি পুনরায় চালু করতে বোর্ডের কাছে আবেদন করেন শামীমা নাসরিন। আবেদনে তিনি নিজেকে এবং তাঁর মা ও বোনের স্বামীকে পরিচালনা বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন। এরপর ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ শামীমা নাসরিন ও তাঁর মা, বোনের স্বামীকে ইভ্যালির নতুন পরিচালনা বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বোর্ডের মিটিংয়ে তাঁদের নতুন পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়। এই পরিচালনা পর্ষদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নিচে নয়, এমন কর্মকর্তাকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে রাখতে বলা হয়। এ ছাড়া নতুন বোর্ডে ই-ক্যাবের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।
এ ব্যাপারে শামীমা নাসরিনের আইনজীবী আহসান হাবীব বলেন, ‘আমরা শুনেছি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের সদস্যরা পদত্যাগপত্রের কপি আদালতে জমা দেবেন। এর বেশি কিছু আপাতত বলতে চাচ্ছি না।’
