পাকিস্তানের প্রতি এত প্রেম কেন, ফখরুলকে কাদের

ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়ে মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে যে পাকিস্তান, তাদের প্রতি বিএনপির এত পেয়ার (প্রেম) কেন তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক যৌথসভার আগে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির প্রতি এই প্রশ্ন রাখেন তিনি।

‘পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলাম’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির ফখরুল সাহেব বলেছেন- পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলাম। তাদের মনের কথা বেরিয়ে গেছে। এই জাতীয়তাবাদীরা আবারও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। আমরা আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে পাকিস্তান বানাতে দেব না। এটাই আমাদের আজকের দিনের শপথ, আমরা এই শপথ করছি।

তিনি বলেন, আবার বলে- পাকিস্তানের নাম শুনলে আমাদের গাত্রদাহ হয়। হ্যাঁ ফখরুল সাহেব, পাকিস্তানের নাম শুনলে তো আমাদের গাত্রদাহ হবেই। পকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। পাকিস্তানের প্রতি আপনার এতো পেয়ার কেন ফখরুল সাহেব। তাহলে তো এটাই প্রমাণ হয় ’৭১-এর বদলা নিতে জিয়ারউর রহমান ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি চিহ্নিত মহল দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে চায়। দেশ-বিদেশে তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা জানে না যে- শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতো পিছু হটতে জানেন না, ভয় পান না। এরা জানে না যে- তিনি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা হেরে যাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হেরে যাবে। যদি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকেন, তবে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না।

বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লায় ও মিরপুরে হামলা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু বরিশাল ও চট্টগ্রামে তো বিএনপি নিজেরা মারামারি করেছে। সেটা কিন্তু মিডিয়া ছাপতে চায় না। তাদের নেগিটিভ নিউজও মিডিয়া ছাপতে চায় না।

সম্প্রতি বিএনপির সমাবেশে হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজেরাই মারামারি করে সরকারের ওপর দোষ চাপাতে চায় বিএনপি। আমি আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বলছি নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশের বাইরে কেউ যদি হামলায় জড়িয়ে পড়েন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এসব করে সরকারের ওপর এসে দায় পড়বে, এটা কিন্তু আমরা ছাড় দেব না। কোনো খারাপ কাজ আমাদের নেত্রী সহ্য করেন না।

আরও পড়ুন