সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ৮-০ গোল ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক এসেছে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের পা থেকে। টুর্নামেন্টে এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
এছাড়া গোল এসেছে সিরাত জাহান স্বপ্না, কৃষ্ণা রানি সরকার, রিতু চাকমা, তহুরা খাতুন ও মাসুরা পারভীনের পা থেকে।
নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শুক্রবার ম্যাচের শুরু থেকে ভুটানকে চাপে রাখে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধে ভুটানকে ৪-০ গোলে পেছনে ফেলে লাল-সবুজের জার্সিধারিরা।
খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই সিরাত জাহান স্বপ্না বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন। কাউন্টার অ্যাটাকে স্বপ্না বল পেয়ে বক্সের মধ্যে আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। খানিকটা ইনজুরি নিয়ে খেলা স্বপ্নাকে ম্যাচের ১২ মিনিটে মাঠ থেকে উঠে যেতে হয়।
স্বপ্না বেরিয়ে যাওয়ার ছয় মিনিট পর বাংলাদেশ ব্যবধান দ্বিগুণ করে। এবার গোলদাতা অধিনায়ক সাবিনা। মিডফিল্ড থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। গোলরক্ষককে একা পেয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন।
৩০ মিনিটে ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রাণী সরকার হেডে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। বাম প্রান্ত থেকে করা ক্রসে বক্সের মধ্যে আনমার্কড থাকা কৃষ্ণার হেডে গোল করতে কোনো সমস্যাই হয়নি। পাচ মিনিট পর ব্যবধান আরো বাড়ান বদলি ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। ৪-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির নয় মিনিট পর অধিনায়ক সাবিনা খাতুন নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। সংঘবদ্ধ আক্রমণে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় বল নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় প্লেসিং করেন এই ফরোয়ার্ড। তিন মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে নেয়া সাবিনার ফ্রি কিক গোলরক্ষকের হাত থেকে ফস্কে গেলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাসুরা পারভীন টোকা দিয়ে বল জালে পাঠান।
শেষ সময়ে তহুরা খাতুন ব্যবধানটা ৭-০ করেন। এরপর একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবিনা। তাতে বাংলাদেশ ৮-০ গোলের বিশাল জয় নিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলে।
১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে কে সেটা নিশ্চিত হবে আজ সন্ধ্যার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে, সেখানে মুখোমুখি হবে ভারত ও নেপাল। ২০১৬ সালে ভারতের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনাল খেলেছিল।
