Home প্রধান খবর শাশুড়ির জন্য পাত্র চেয়ে ফেসবুকে পুত্রবধূর বিজ্ঞাপন

শাশুড়ির জন্য পাত্র চেয়ে ফেসবুকে পুত্রবধূর বিজ্ঞাপন

0
174

শাশুড়িকে বিয়ে করার মতো একজন যোগ্য পাত্রের জন্য পাত্র-পাত্রীসংক্রান্ত একটি ফেসবুক গ্রুপে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন পুত্রবধূ

পোস্ট দেয়ার দুই দিনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুজনকে ভালো লেগেছে। এখন কথাবার্তা চলছে। তিনি আশা করছেন, চার হাত এক করে দিয়ে শাশুড়ির জীবনের একাকিত্ব ঘোঁচাতে পারবেন তিনি।

সেই তরুণী জানিয়েছেন, তার শাশুড়ির একাকিত্বের বিষয়টি চিন্তা করে তার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই পোস্ট দিয়েছেন। আর এর দুই দিন পর তার শাশুড়িকে জানান। শুরুতে তিনি আবার বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তবে পরে দুজন মিলে রাজিও করান।

ফেসবুকে পোস্ট দিলেও গণমাধ্যমে আপাতত তার বা শাশুড়ি- কারও নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না সেই তরুণী। জানিয়েছেন, এটি তার শাশুড়ির ইচ্ছা। সেটিকেই সম্মান জানাচ্ছেন।

পাত্র-পাত্রী খুঁজতে ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেসবুক গ্রুপ ‘বিসিসিবি মেট্রিমনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’। সেখানে নিজের জন্য, ভাইবোনের জন্য, ছেলেমেয়ের বা অন্য স্বজনের জন্য পোস্ট দেয়া হয় অহরহ।

এর ভিড়ে আগস্টের শুরুতে মায়ের জন্য পাত্রের সন্ধান পেয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেন মোহাম্মদ অপূর্ব নামে এক যুবক। তার বাবা মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি ও তার ভাই মাকে সময় দিতে পারেন না। তাই এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে মায়ের সঙ্গী চাইছেন তিনি।

শাশুড়ির জন্য পাত্র চেয়ে পোস্টের পেছনেও কারণ অনেকটাই একই রকম। এক যুগেরও বেশি সময় আগে বিচ্ছেদ হয়েছে বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী নারীর। একমাত্র ছেলেকে বিয়ে দেয়ার পর তিনি অনেকটাই নিঃসঙ্গ। ছেলে ও পুত্রবধূ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন, তখন তিনি আরও একা হয়ে পড়বেন।

পরে ছেলে ও পুত্রবধূ মিলে ঠিক করলেন, এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে হবে। পোস্টদাতা পুরান ঢাকার বাসিন্দা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি পোস্টটি দেন সেই গ্রুপে।

তখনও তার শাশুড়ি বিষয়টি জানতেন না। শাশুড়িকে জানান দুই দিন পর। সেই তরুণী বলেন, ‘আগে জানালে হয়তো উনি রাজি হতেন না। কারণ আমি আর আমার হাজবেন্ড মিলে তাকে রাজি করাতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে।’

কোন ভাবনা থেকে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু বাবারাই দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে। আমরা এটাই স্বাভাবিক ধরে নিই। কিন্তু একজন নারীরও যে একাকিত্ব আছে, একটা সময় গিয়ে তার সঙ্গীর দরকার হয়, সেটা আমরা ভুলে যাই।

‘বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম আম্মু (শাশুড়ি মা) একটু চুপচাপ থাকেন। ২০০৯ সাল থেকে আমার শ্বশুরের কাছ থেকে তিনি আলাদা। ওনাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। আম্মুর সব কিছুই ছিল ছেলেকেন্দ্রিক। ছেলে ছাড়া অন্য কিছু কখনই ভাবেননি। তার জীবনের অনেকটা সময় ছেলের কথা ভাবতে গিয়ে স্যাক্রিফাইস করেছেন। আমরা চাই না উনি আরও স্যাক্রিফাইস করুক।’

এই ফাঁকে পোস্টদাতা তরুণী জানিয়ে রাখছেন, শাশুড়ির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সেই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আরেকটি সংসার করছেন।

এই উদ্যোগে পরিবারের অন্য সদস্যের সম্মতি আছে কি না- জানতে চাইলে সেই তরুণী বলেন, ‘মূলত তার ছেলেই সব। প্রথমদিকে ওর একটু সমস্যা ছিল। পরে রাজি হয়েছে।

‘উদ্যোগটা আমিই নিয়েছি। কারণ একটা মেয়ে হয়ে আমি বুঝি, মায়েরা বলতে পারেন না। কিন্তু একাকিত্ব তাদেরও অনেক কষ্ট দেয়।’ নিউজবাংলা।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here