নজর২৪ ডেস্ক- বরখাস্তকৃত এসআই আকবরকে ধরিয়ে দিতে যিনি সহায়তা করেছেন সেই সাহসী ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক প্রবাসী। সোমবার ফেসবুকে এ ঘোষণা দেন কানাডা প্রবাসী মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেন। যাকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে তার নাম রহিম উদ্দিন।
প্রবাসী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘একজন কৃষকের ছেলে রহিম উদ্দিন আকবরকে ধরেন। এ কথা শুনে আমরা প্রবাস থেকে এই সাহসী ছেলেকে উপহার দিয়েছি। যাতে এটা দেখে অন্যরাও ভালো কাজে উৎসাহিত হয়।’
ভারতে পালানোর সময় সোমবার সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার ডনা সীমান্তে খাসিয়াদের সহায়তায় স্থানীয়রা আকবর হোসেনকে আটক করে। এরপর তাকে গ্রেফতার করে উদ্ধার করে নিয়ে আসে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার রাতে ভারতের মেঘালয় এলাকার শিলচরের দনা বস্তি এলাকায় আকবরকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আটকের পর এসআই আকবরকে দনা ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে খাসিয়ারা তাকে বাংলাদেশি এক গরু ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় আকবরের অবস্থা ছিল বিপর্যস্ত।
আটকের পর ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, খাসিয়াদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তার নাম আকবর বলে জানান।
‘মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য তোমরা মানুষ খুন করো’-এই বলে খাসিয়ারা যখন তাকে তিরস্কার করছিলেন-তখন উত্তরে আকবর বলেন, ‘আমি মারি নাই’।
আকবর জানান, ভারতে পালিয়ে যেতে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এক সিনিয়র কর্মকর্তা।
কোন অপরাধে রায়হানকে মারা হলো জানতে চাইলে বরখাস্তকৃত এই এসআই বলেন, ‘আমি মারিনি ভাই, আমি ইচ্ছা করে একা মারিনি। তারে মেরেছে ৫-৬ জন। পাবলিক মেরেছে তাই সে মরে গেছে। আমি বরং তাকে হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু ওখানে সে মারা যায়। সে টাকা ছিনতাই করেছিলো।’
এসময় স্থানীয় অপর একজন বলেন, ‘আর তার জান তোমরা ছিনতাই করেছ?’ উত্তরে আকবর বলেন, ‘ভাই, আমরা জান নেইনি, বরং আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ (৩৪)। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।
এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী। স্ত্রীর দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। এদিকে ঘটনার পর পরই পালিয়ে যায় আকবর হোসেন।
