স্পোর্টস আপডেট দেস্ক: বেটউইনারের সঙ্গে সাকিব আল হাসান চুক্তির কারণে বেশ তোলপাড় হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে। চুক্তি বাতিল না করলে তার সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পর্ক ছিন্ন করারও হুমকি দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাতিল করেই ফিরে এসেছেন সাকিব। এরই প্রেক্ষিতে আজ বেলা তিনটার কিছু সময় পর বিসিবি সভাপতির বাসভবনে পাপনের সঙ্গে বৈঠক করেন সাকিব।
সেই বৈঠক শেষে সাকিব কিংবা পাপন কেউই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেননি। বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে মিডিয়ার সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তিনি জানান, সাকিব স্বীকার করেছেন যে জুয়া কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া তার ঠিক হয়নি।
বিসিবিকে না জানিয়ে জুয়া কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার পরও সাকিবকে শাস্তির বদলে কেন অধিনায়কত্ব দেওয়া হলো―এমন প্রশ্নের জবাবে জালাল ইউনুস বলেন, “এখানে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। মাননীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সাকিব তার ভুল বুঝতে পেরেছে। এটা তার করা ঠিক হয়নি। তা ছাড়া সাকিব আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার। আগের বোর্ড মিটিংয়ে সাকিবকেই অধিনায়ক করার একটা পরিকল্পনা আমাদের ছিল। সাকিব যেহেতু আজ স্বীকার করেছে যে সে কোনো ভুল কারণে একটা নিউজ অনলাইন মনে করে সেখানে সে এনডোর্সমেন্ট দিয়েছিল, যা ঠিক ছিল না। এ বিষয়ে তাকে বুঝিয়ে বলার পর সে বলেছে যে, ‘আমি ওখান থেকে সরে এসেছি’। ”
সাকিবের মতো একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার প্রচুর বিজ্ঞাপনে কাজ করে থাকেন। তার এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকার কথা নয়। তা ছাড়া যে প্রতিষ্ঠানের নামের আগে ‘জুয়া’ শব্দটি জড়িয়ে আছে, সাকিবের সেটি না বোঝার কারণ নেই। তাহলে কি সাকিবকে মিসগাইড করা হয়েছিল? জালাল ইউনুস বলেন, ‘তার (সাকিব) কাছে মনে হয়েছে হয়তো মিসগাইড এটা। সে যেহেতু আমাদের অনুমতি না নিয়েই চুক্তি করে ফেলেছে, এ ব্যাপারে আমরা পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা করব। অফিশিয়াল চুক্তি বাতিল ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ’
জালাল ইউনুস আরও বলেন, ‘আমরা তাকে ওউন করি। সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে বলেছে, সামনে এমন কোনো ভুল হবে না। সে আশ্বাস দিয়েছে আমাদের বোর্ড সভাপতির সামনে, আমরা সেটা মেনে নিয়েছি। বেস্ট প্লেয়ার হলেই শৃঙ্খলা বা কোড অব কডাক্ট ভাঙলে কম্প্রোমাইজ করা ঠিক না। হয়তো এটা কম্প্রোমাইজ করা উচিত না। দলের স্বার্থে…যেহেতু সে বলেছে সামনে এরকম কোনো সমস্যা হবে না আমরা আশা করি সামনে এটা আর সে রিপিট করবে না। এই চিন্তা মাথায় রেখে আমাদের এই সিদ্ধান্ত।’
উল্লেখ্য, ঘটনার শুরু সাকিবের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে সাকিব জানান ‘বেট উইনাইর নিউজ’-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ‘বেট উইনার নিউজ’ হচ্ছে ‘বেট উইনার ডট কম’-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। যেটি বেটিং সাইট।
এরপরই কঠোর অবস্থানে যায় বিসিবি। এর প্রেক্ষিতে সাকিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানান বিসিবি কর্তারা। বিসিবির প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন তো বলেই দিয়েছিলেন, চুক্তি বাতিল না করলে বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে সাকিবের। অর্থাৎ বাংলাদেশের হয়ে খেলাই অনিশ্চিত হয়ে পরে সাকিবের।
বিসিবি থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত প্রায় সকলেই অবস্থান নেন সাকিবের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে চলে সাকিবকে নিয়ে আলোচনা। ভুল বুঝতে পেরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন সাকিব। সেই ওয়েবসাইটের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করেন তিনি। এই সময়কালে যে মোটেও স্বস্তিতে ছিলেন না সাকিব তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আজ দিনটা সাকিবের জন্য স্বস্তির; দেশের ক্রিকেটর জন্য স্বস্তির। কেটেছে সব শঙ্কার কালো মেঘ। তার বহিঃপ্রকাশেই হয়তো মিটিং শেষে হাসি মুখে বোর্ড সভাপতির বাসা থেকে বের হয়ে সকলের উদ্দেশ্যে ‘উড়ো চুমু’ দেন সাকিব।
