মহাসড়কে ডিম বোঝাই পিকআপ ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা

খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিমের দাম এখন ৫০ টাকা। এতে ডিমপ্রতি দাম পড়ে সাড়ে ১২ টাকা। এর আগে কখনও দেশে এত দামে মানুষকে ডিম কিনতে হয়নি বলে দাবি করছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ঠিক এমন সময়ে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র সিদ্ধান্ত নেয়—ডিমের পিকআপ ডাকাতি করার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বন্দর থানা এলাকার মহাসড়কে একটি ডিমবোঝাই পিকআপ গতিরোধ করে চক্রটি। পিকআপতে ২৫ হাজার ডিম ছিল।

ওই পিকআপকে থাকা চালক ও চালকের সহকারীর প্রথমে যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস নামের একটি বাসে ওঠানো হয়। তারপর তাদের হাত-পা বেঁধে এবং মুখ ঢেকে প্রহার করে ডাকাতেরা। ওই বাসটি ডাকাতির কাজে দেড় বছর ধরে ব্যবহার করে আসছিল চক্রটি। চক্রটি সাধারণত পণ্যবাহী ট্রাক ডাকাতি করে থাকে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আজ শনিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন সংস্থটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ঘটনায় মূলহোতাসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া চালক ও চালকের সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় বাসটি।

গ্রেফতাররা হলেন ডাকাত দলের সরদার মুসা আলী (৪০), নাঈম মিয়া (২৪), শামিম (৩৫), রনি (২৬), আবু সুফিয়ান (২০) ও মামুন (২৪)। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, দুটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছোরা ও একটি বাস জব্দ করা হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাতে রূপগঞ্জের ভুলতা গোলাকান্দাইল এশিয়ান হাইওয়েতে র‌্যাব-১১ এর একটি দল টহল দিচ্ছিল। এসময় একটি ডিমবোঝাই পিকআপের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে তাকে থামান র‌্যাব সদস্যরা। তখন পিকআপ থেকে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ‘যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেডে’র একটি বাস নিয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে ডিমের পিকআপের পিছু নেয়। একপর্যায়ে ভুলতা-রূপসী সড়কে পিকআপটির সামনে গিয়ে বাস দিয়ে পথরোধ করে। এরপর পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পিকআপটি নিয়ন্ত্রণে নেয় ডাকাতরা। এসময় তাদের আরেকটি দল পিকআপের চালক ও সহকারীর হাত-পা বেঁধে মারপিট করে বাসে উঠিয়ে নেয়।

এরপর ডাকাত দলের সরদার মুসা ও তার প্রধান সহকারী নাঈম পিকআপটি নিয়ে গাউছিয়া-মদনপুরমুখী রাস্তায় নিয়ে যায়। আর ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা পিকআপের চালক ও হেলপারকে বাসে করে মদনপুরের দিকে নিয়ে যায়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ডাকাতদের দেওয়া তথ্যে পিকআপের চালক ও হেলপারকে উদ্ধারে মদনপুর যায় র‌্যাব। সেখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে জব্দ করা হয় বাসটি। এসময় ডাকাতদলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে র‌্যাব সদস্যরা ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। আর বাকি ৪-৫ জন বাস থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাসের ভেতর থেকে পিকআপচালক ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, এই ডাকাত দলটি বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছিল। তারা পেশায় কেউ পোশাককর্মী, কেউ গাড়িচালক, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রি ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দিনে নিজ নিজ পেশায় থাকলেও বিভিন্ন সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *