নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে সব পণ্যের দর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু ব্রয়লার মুরগির দামই কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা।
গরুর মাংসের কেজি আগে থেকেই ৭০০ টাকা। তাই এত দিন যারা মুরগির মাংসের ওপর ভরসা করে ছিলেন তারাও কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। মুরগির ডিমের ডজন পৌঁছেছে ১৫০ টাকায়; যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।
এদিকে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। মধ্যবিত্তের অনেকে বলছেন, আমিষ খাওয়া হয়তো ভুলে যেতে হবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দেশে হুহু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে আমিষের সস্তা পণ্য হিসেবে ব্রয়লার মুরগির দাম। এত দিন যে মুরগি ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর তা ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মানুষের চাহিদার শীর্ষের পণ্য ডিম। তার দামও বেড়েছে ডজনে ৩০-৪০ টাকা। এখন এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। শুধু মুরগি বা ডিমের দাম নয়, চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সব ধরনের সবজি। কয়েকদিন ধরে অস্থির থাকা কাঁচা মরিচের দাম এখনো ২০০ টাকার কাছাকাছি।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির দাম আগে থেকেই কিছুটা বাড়তি ছিল। তেলের দাম বাড়ার পর পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই মুরগির দাম বাড়ছে।
আগারগাঁও বিএনপি বাজারের ডিম বিক্রেতা রাশেদ বলেন, পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে ডিমের সরবরাহও কমেছে। তাই ডিমের দাম বাড়তি। সামনে আরও খারাপ দিন আসছে। ডিমের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। মুরগির খাদ্যের দাম বেশি বলে অনেকেই মুরগি পালনে অনাগ্রহী। যে কারণে চাহিদা অনুযায়ী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া জ্বালানি তেলের প্রভাবও পড়েছে।
আল্লাহ্র দান চিকেন ব্রয়লার হাউজের কর্মচারী মো. উজ্জ্বল বলেন, ব্রয়লার প্রতি কেজি ২১০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এক সপ্তাহ আগে ১৬০ টাকা ছিল। গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ব্রয়লার কিনতে আমাদেরই ১৯৩ টাকার বেশি পড়ে।
সাজিদুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, অল্প বেতনে কাজ করি, গরুর মাংসের দাম বেশি থাকায় সাধারণত ব্রয়লার মুরগি কেনা হয়। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দাম হাঁকছে ২১০ টাকা। কি করি ভেবে পাচ্ছি না।
অন্যদিকে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা, আটাশ ৫৪ টাকা, নাজিরশাইল ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮২ টাকা ও চিনিগুঁড়া ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায়। এছাড়া কাটারি চাল ৬৮ টাকা থেকে বেড়ে ৭২ টাকা হয়েছে।
চালের দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাওরানবাজারের মদিনা রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগে চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে ট্রাক আনতে ২৪ হাজার টাকা খরচ পড়তো। এখন তেলের দাম বাড়ায় ২৯ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে এই বাড়তি টাকা চালের দামে প্রভাব পড়েছে। তাই পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে বেড়েছে।
বিএনপি বাজারের সাত্তার জেনারেল স্টোরের এক কর্মচারী বলেন, প্রতি কেজি চালের দাম ২-৪ টাকা বেড়েছে। চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। সবকিছুর খরচ আগের তুলনায় বেশি।
