বাবা মারা গেছেন। দুই সন্তান নিজেদের ব্যবসাসহ কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন বলে মাকে সেভাবে সময় দিতে পারেন না। কিন্তু মা যেন একাকিত্বে না ভোগেন, তিনি যেন ভালো থাকেন, সেটা চান তারা। আর এ ভাবনা থেকেই মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন তারা।
ফেসবুকে পাত্র-পাত্রী খোঁজার অন্যতম বড় প্লাটফর্ম ‘বিসিসিবি ম্যাট্রিমনিয়াল’ গ্রুপে সম্প্রতি এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি পোস্ট করেছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ অপূর্ব। তিনি ‘জি অ্যান্ড টেক’ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এমডি। তার বড় ভাই ইমরান হোসেন। পেশায় ব্যবসায়ী ইমরান বিয়ে করেছেন, তার পাঁচ বছরের এক সন্তানও আছে।
বিজ্ঞপ্তির পাত্রী অর্থাৎ অপূর্বের মায়ের নাম ডলি আক্তার। তার বয়স ৪২ বছর। পড়েছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। ইমরান-অপূর্বর বাবা ঈয়াদ আলী ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে ভুগে বছর দুয়েক আগে মারা গেছেন। মাকে পারিবারিকভাবেই বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়ে অপূর্ব বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছেন, বাবা মারা গেছেন, তাই আম্মুর জন্য পাত্র খুঁজছি।
মায়ের জন্য কেমন পাত্র চান, তা-ও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন ছেলে। মায়ের সঙ্গে মানানসই পাত্র চান। পাত্র ঢাকার আশপাশের হলে ভালো হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলে সমস্যা নেই।
পাত্রের পেশা চাকরি বা ব্যবসা—যেকোনোটা হতে পারে। ধর্মকর্ম করার পাশাপাশি পাত্রকে সাদামাটা হতে হবে। যিনি মায়ের জীবনের বাকি চলার পথের সঙ্গী হতে পারবেন। পাত্রের বয়স ৪২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হলে ভালো হয়।
বিজ্ঞপ্তি শেষ করা হয়েছে এভাবে, পারিবারিকভাবেই মায়ের বিয়ে দিতে ইচ্ছুক। বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মা-ছেলে ও মায়ের একার ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি পোস্ট হওয়ার পর ভাসছে প্রশংসায়। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত অপূর্বর সেই বিজ্ঞপ্তিতেই মন্তব্য পড়েছে প্রায় ৬০০। এর প্রায় সবই প্রশংসাসূচক।
মোহনা আফরোজ নামে একজন লিখেছেন, ‘কী দারুণ প্রগতিশীল মানসিকতার সন্তান তিনি গড়ে তুলেছেন, অভিবাদন!’
অনেকে ডলি আক্তারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন মন্তব্যের ঘরে। লাম মীম আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘এটা খুবই অনুপ্রেরণামূলক। আশাকরি, আপনার মা তার জন্য যোগ্য একজন জীবনসঙ্গী পাবেন’।
