৭০ মামলার আসামি আ.লীগ নেতা মনির অস্ত্র-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নজর২৪ ডেস্ক, ঢাকা- রাজধানীর আদাব থেকে অস্ত্র ও বার্মিজ ইয়াবাসহ মনিরুজ্জামান ওরফে মনির নামে এক জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মনির আদাব থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, ১/২ পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটির বাসায় অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দখল, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে।

 

মনির সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ঢাকা উদ্দ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা উদ্দ্যানসহ আশপাশে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

 

র‌্যাব-২ এর অপস অফিসার মামুন তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আমারা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত জানাবো।

 

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে সত্যতা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মনিরের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে সেসব বিষয়ে র‍্যাবের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে র‌্যাব সূত্র বলছে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে লাগেজ ভর্তি ডলার নিয়ে সপরিবারে রাতারাতি আমেরিকায় পালিয়ে যায় মনির। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গত কোরবানির ঈদে দেশে ফিরেই তিনি ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং ও চন্দ্রিমা উদ্যানে দখলবাণিজ্য শুরু করেন। গত তিন মাসে জাল কাগজপত্র বানিয়ে শুধু ঢাকা উদ্যানেরই চারটি প্লট দখল করেছেন মনির। মনিরের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র মোহাম্মদপুর থানা ও আদালতে চাঁদাবাজি, জবরদখল, মাদক, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, চুরিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে।

 

বাংলাদেশ বিমানের জুনিয়ার পার্সার কাজী আশরাফ আল কাদের ও তার স্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারের প্লট দখল করে নেয় মনির। আরেক ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোস্তফা নাজিম, ঢাকা উদ্যানের সি-ব্লকে ১ নম্বর সড়কের একটি প্লটে চলতি বছরে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে মনির তার কাছে চাঁদা দাবি করে।

 

মনিরের সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা ও লুটপাটের শিকার হন মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের আজহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বরকত উল্লাহ।

 

প্রায় দেড় দশক আগে মোহাম্মদপুর এলাকার বিএনপির ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদ ব্যাপারীর হাত ধরে দখলবাণিজ্যে মনিরের হাতেখড়ি। স্থানীয় কয়েক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাকে হাত করে চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য চালাতেন তিনি।

 

এ ছাড়াও ইয়াবা কারবারে জড়িত মনির। এক সময়ে মোহাম্মদ থানায় কর্মরত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আতিক তার হয়ে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান ঢাকায় নিয়ে আসতেন। মাস দুয়েক আগে আতিক চালানসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

 

আতিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে আরেক সদস্য মনিরের ঘনিষ্ট সহযোগী হুমায়নকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও গডফাদার মনিরকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। অবশেষে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেন মনির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *