বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও করতে এলে চা খাওয়াব: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তারা যদি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে তাও বাধা দেয়া হবে না। বরং তারা অফিস পর্যন্ত হেঁটে আসতে পারলে সসম্মানে বসিয়ে চা খাওয়ানো হবে। তাদের কথা শুনতেও আপত্তি নেই।’

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটির সভাপতি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো বলে দিয়েছি যে তারা যদি প্রাইম মিনিস্টার অফিসও ঘেরাও করতে আসে, পুলিশ তাদের যেন বাধা না দেয়। বিশেষ করে বাংলামোটরে বাধা দেয়া, এটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি।

‘আসুক না, হেঁটে হেঁটে যতদূর আসতে পারে; কোনো আপত্তি নেই। আমি তাদের বসাব, চা খাওয়াবো, কথা বলতে চাইলে শুনব। কারণ আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তবে বোমাবাজি ও ভাংচুর করলে বাধা দেব। সেটা করলে তারা উপযুক্ত জবাব পাবে।’

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের বিষয় টেনে শেখ হাসিনা বলেন, তিনশ সিটে যদি একটি দল সাড়ে সাতশ মনোনয়ন দেয়, তাহলে তাদের নির্বাচন কী করে হয়? একজন বিএনপি অফিস থেকে, আরেকজন লন্ডন থেকে, আরেকজন গুলশান অফিস থেকে দিয়েছেন। যারা এভাবে নির্বাচন করে, তারা নির্বাচনে জিতবে কী করে?

তিনি বলেন, বিএনপি যে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অর্থপাচার— কী কাজটা না করেছে। তাদের দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক বিদ্যুতে বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়, যোগাযোগে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে এনেছে। আমরা পরপর তিনবার ক্ষমতায়। এজন্য বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

আওয়ামী লীগ সবসময় এ দেশের জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী বলে জানিয়ে দলটির সভাপতি বলেন, আমরা সেটা বিশ্বাস করি। সেই জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যতটা উন্নতি হয়েছে, সেটা আমাদের আমলেই হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য দুই তৃতীয়াংশ ক্ষমতা নিয়েই সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়— যাদের এ ধরনের মানসিকতা, তারাই ভোট চুরি করে। জিয়াউর রহমান, এরশাদ তাই করে গেছেন। আর খালেদা জিয়া তো গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েই ক্ষমতা এলেন। আরেকবার জামায়াতের হাত ধরে এলেন।

সমালোনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা থাকলে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়, মানুষ ভালো থাকে।

এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারী, ১০ ট্রাক অস্ত্রের চোরাকারবারি, অর্থপাচারকারীরা বিএনপির নেতা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে একটা মানুষও পায়নি তারা নেতা বানাতে? দলটির গঠনতন্ত্রের ৭ অনুচ্ছেদে আছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলে দলটির নেতা হতে পারবে না। কিন্তু বিএনপি তাই করেছে। তারপরও তারা কথা বলছে।

তিনি বলেন, সারাদিন কথা বলার পর বলে আমাদের (বিএনপি) কথা বলতে দেয় না। মিটিং করে লোক হয় না, বলে আমাদের লোক আসতে দেয় না। অভিযোগ তো তারা (বিএনপি) করে। কিন্তু তাদের কাছে লোক আসবে কেন? কোন আশায় আসবে। সেটা হলো বাস্তব কথা, সেটা তো চিন্তা করতে হবে।

আদমশুমারিতে দেশের জনসংখ্যা খুব একটা বাড়েনি বলে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি ৫০ লাখ প্লাস। সামান্য কিছু হয়তো পরবর্তী সময়ে বাড়বে বন্যাকবলিত এলাকা ধরে। কেউ আমাদের ১৮ কোটি বলে, ১৭ কোটি বলে, আমাদের কিন্তু এত জনসংখ্যা না। কাজেই এই মানুষগুলোকে খাবারে ব্যবস্থা করতে পারব। সবই পারব। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ যতক্ষণ ক্ষমতায় আছে সবই, পারবো। কিন্তু লুটেরা আসলে কী করবে, সেটা জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *