এবার রূপঙ্করকে একহাত নিলেন স্বস্তিকা

কলকাতায় কেকে’র অনুষ্ঠান নিয়ে ফেসবুক লাইভে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রূপঙ্কর বাগচী। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীর হঠাৎ মৃত্যুতে সেই বিতর্ক এখন অন্য দিকে মোড় নেয়। নেটিজেন থেকে শুরু করে সিনেমা-সংস্কৃতি জগত অনেকেরই আক্রমণে মুখে পড়েছেন বাঙালি এই সংগীতশিল্পী। এবার সে তালিকায় যোগ হলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

গতকাল বুধবার প্রথম তিনি মুখ খোলেন কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে-র আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে। জানান, প্রতিবাদ এখনো ফেসবুকে আটকে থাকলে শিল্পের নামে গুণ্ডামি চলতেই থাকবে! তারপরেই তিনি সরব রূপঙ্কর বাগচীর বিরুদ্ধে।

এই বিতর্কেই নতুন সংযোজন স্বস্তিকা। তার পাল্টা প্রশ্ন, অভিনেতারা মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকদের বিনোদনের চেষ্টা করলে দোষ! অন্য পেশার মানুষ পর্দায় মুখ দেখালে কোনো সমস্যা নেই? তিনি মেনে নিয়েছেন, সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই গাইতে বা নাচতে পারেন না। কিন্তু তারা তো মঞ্চে ম্যাজিক দেখাতে পারেন না। তাই বিনোদন হিসেবে এগুলোই বেছে নেন। কিন্তু একজন চিকিৎসক, অধ্যাপক, চাকরিজীবী বা অন্য পেশার মানুষ নিজস্ব কাজ থাকা সত্ত্বেও কত সহজে অভিনয়ে আসেন। একজন অভিনেতা কিন্তু চাইলেও অভিনয়ের বাইরে আর কিছুই করতে পারেন না। বিষয়টি কেউ বিবেচনা করেন না।

এরপরেই তিনি আঙুল তোলেন রূপঙ্করের দিকে। তার বক্তব্য, ‘আপনি তো খুব ভালো গান। ওটাই আপনার পেশা। তা হলে কেন অভিনয়ের খাতায় নাম লেখালেন?’

অভিনেত্রীর অভিযোগ, রূপঙ্কর না এলে কোনো ভালো অভিনেতা সুযোগ পেতেন। নিজেকে প্রমাণ করতে পারতেন। রূপঙ্করও তো একাধিক পেশায় নাম লিখিয়ে অন্যের পেটে লাথি মারছেন!

যুক্তিও দিয়েছেন, ‘রূপঙ্করের গান শোনার জন্য টিকিট বিক্রি হতে পারে। কিন্তু তার অভিনয় দেখার জন্য কি কেউ চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবেন?’তোপ দেগেছেন পরিচালক, প্রযোজকদের দিকেও। কেন তারা অভিনেতাদের সুযোগ না দিয়ে একজন গায়ককে সুযোগ দিচ্ছেন?

রূপঙ্করের গান শোনা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি স্বস্তিকা। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পর থেকে কী করব জানি না। আমাদের তো সবার স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি! দুদিন চেঁচাই। তার পর সবাই সব ভুলে যাই।’

অভিনেত্রীর দাবি, এত দিন ওর খুব খারাপ অভিনয় নিয়ে কেউ তো ‘খিল্লি’ করেননি! এবার থেকে স্বস্তিকা সেই কাজটিই করবেন।

এই মুহূর্তে রূপঙ্কর আছেন উড়িষ্যাতে। কাজ করছেন একটি ওয়েব সিরিজে। গায়কের মতে, মুম্বাইয়ের প্রতি, হিন্দির প্রতি বাঙালিদের ঝোঁক দেখেই ফেসবুকে ভিডিওটি করেছিলেন। বাঙালিকে বাংলা গ্রহণ করতে বলতেই নিজেদের শিল্পী ভালো বলে দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে, কেকের মৃত্যুর ঘটনা শোনার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন রূপঙ্কর। ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময়কে তিনি বলেন, ‘দুঃখ লাগছে, কষ্ট হচ্ছে। কেকে অত্যন্ত বড় মাপের শিল্পী ছিলেন। এটা ওনার মৃত্যুর বয়স নয়। আমি কেকে’র বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইনি। মানুষ বুঝতে না পারলে সত্যি খারাপ লাগবে। বাংলা গান, বাংলা সাহিত্য নিয়ে বলতে চেয়েছিলাম আমি।’

৩১ মে প্রথম প্রহরে রূপঙ্কর ভিডিওতে বলেন, ‌‘‘কেকে সত্যিই খুব ভালো গায়ক। কিন্তু ওর লাইভ ভিডিও দেখার পরে উপলব্ধি হলো, কেকে জাতীয় স্তরে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বাংলার শিল্পীরা কোনও অংশে কম নন। আমি, রূপম ইসলাম, অনুপম রায়, ইমন চক্রবর্তী, সোমলতা আচার্য— আমরা সবাই কেকের থেকে ভালো গান গাই! কিন্তু তাকে ঘিরে এত কথা কেন? কেকে কে! হু ইজ কেকে?’’

এরপর সমালোচিত হতে থাকেন রূপঙ্কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *