Home আলোচিত লালমনিরহাট এসে জার্মান জামাই নিজে কাঁদলেন, কাঁদিয়ে গেলেন সবাইকে

লালমনিরহাট এসে জার্মান জামাই নিজে কাঁদলেন, কাঁদিয়ে গেলেন সবাইকে

0
178

ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সুদূর জার্মান থেকে শ্বশুরবাড়ি লালমনিরহাটে ছুটে আসা জামাতা প্যাট্রিক জার্মানে ফিরে গেছেন। শ্বশুরবাড়িসহ আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়িয়ে ১৫দিনের মাথায় গত ১২মে জার্মানে ফিরে গেলেন জামাতা প্যাট্রিক ও মেয়ে ইভা।

প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে ঈদ উদযাপন করে খুশি প্যাট্রিক ও ইভা দম্পতি। এ দম্পতি এখন ফেসবুকে ভাইরাল।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য জার্মানে যায় ইভা। সেখানে গিয়ে ইভা পড়াশুনার পাশাপাশি একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি নেয়। ওই সময় রেস্টুরেন্টে আসা-যাওয়া ছিল অর্থনীতিতে পিএইচডি করা ড. প্যাট্রিক মুলারের। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব অতঃপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ইভা বিয়ে করেন প্যাট্রিককে। বিয়ের এক বছর পর পুত্রসন্তানের মা হয় ইভা।

এদিকে চার বছরের সংসার জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের রূপ দেখে মুগ্ধ হয় প্যাট্রিক। পরে ইভার পরিবারকে নিয়ে ঈদ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। বিষয়টি ইভা তার পরিবারকে জানায়। পরে ২৯ এপ্রিল জার্মান জামাই শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন।

এদিকে প্রথমবার বিদেশি জামাই আসায় শ্বশুরবাড়িতে রান্না করা হয় চাইনিজ খাবার। কিন্তু জার্মান জামাইয়ের আবদার তিনি বাঙালি খাবারের স্বাদ নেবেন। পরে জামাইয়ের আবদার মেটাতে মাছ-মাংসসহ নানা ধরনের খাবার রান্না করা হয়। জার্মান জামাইও চামচ ব্যবহার না করে হাত দিয়ে খাবারের স্বাদ নেন। আর এসব দেখে মুগ্ধ হয় ইভার পরিবারের লোকজন।

এদিকে, ঈদের পরের দিন জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায় প্যাট্রিক। সেখানে তিনি গ্রামের মানুষদের সঙ্গে সানন্দে ধান কাটেন ও মাড়াই করেন। এছাড়াও পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরার পাশাপাশি বাইসাইকেল চালায় এবং গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পানও খেয়েছেন সে।

এভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে ১৫ দিনের মাথায় লালমনিরহাট থেকে জার্মানে ফিরে যান প্যাট্রিক-ইভা দম্পতি। তাদের বিদায়বেলা সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। এ সময় কেঁদেছেন প্যাট্রিক, কাঁদিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ এলাকাবাসীকে।

মৌসুমি আক্তার ইভা বলেন, প্যাট্রিক একজন ভালো মনের মানুষ। তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমি খুশি।

ইভা আরও বলেন, বাঙালি রীতি মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এখনো করা হয়নি। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এর পরের বার বাংলাদেশে এসে করার কথা ভাবছি।

গ্রামগঞ্জ ঘুরে প্যাট্রিক বলেন, ফেসবুক ইউটিউবের কল্যাণে বাংলাদেশের গ্রামের রূপ দেখেছি। বাস্তবে এত সুন্দর হবে ভাবতে পারিনি। এ দেশের মানুষ অনেক ভদ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here