রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশের সদ্যজাত শিশু ও ০ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ডায়রিয়া ও অন্যান্য ভাইরাস জনিত সমস্যা নিয়ে পিতা মাতা ও অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত শিশু চিকিৎসক বা হাসপাতালে ভিড় করেন। তবে এই গরমে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপক আকাড় ধারণ করেছে।
শিশুদের এই সকল শারীরিক সমস্যা উপশমের লক্ষ্যে চিকিৎসকগণ বিদেশ থেকে আমদানীকৃত বেশকিছু ব্র্যান্ডের গুড়োদুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যেমন- ন্যান এল-১০, ল্যাক্টোজেন রিকভার, ল্যাকটোফিক্স, গ্রাস্ট্রোফিক্স ও এলএফ। এই সকল গুড়োদুধে ডায়রিয়া ফর্মুলা দেওয়া থাকে।
তবে প্রায় ১ মাস যাবৎ এইসকল গুড়োদুধ সিরাজগঞ্জের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না, এতেই বিপাকে পড়েছে জেলার হাজার হাজার শিশুর পিতা মাতা ও অভিভাবক। শুধু সিরাজগঞ্জেই নয় আশপাশের জেলা গুলো থেকেও একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, বেলকুচি ও উল্লাপাড়ার বাজার ঘুরে তথ্য অনুসন্ধানে ব্যাবসায়ী ও দোকানীরা জানায়, বাজারে এই সকল গুড়োদুধ না পাওয়ায় বিপাকে পরেছে জেলার হাজার হাজার শিশুর পিতা মাতা, অভিভাবক ও চিকিৎকরা। তাদের সন্তানদের ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসকরা শিশুদের শারিরিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই সকল গুড়োদুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। তবে কোথাও এই সকল গুড়ো দুধ না পেয়ে বিপাকে পরতে হচ্ছে লাখ লাখ অভিভাবককে।
স্থানীয় কোন দোকান বা ফার্মেসীতেও এই সকল দুধ না পেয়ে আবারও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা কিন্তু এই দুধগুলোর বিকল্প না থাকায় চিকিৎসকরাও বিপাকে পরেছেন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে সংকটের এই চিত্র চোখে পড়ে। শিশুদের অভিভাবকরা ডায়রিয়া ফর্মুলার এই দুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দোকান কিংবা সুপারশপ গুলোতেও এই সকল দুধ চোখে পড়েনি।
আবুল কালাম নামের একজন অভিভাবক জানান, আমার ৩মাস বয়সী ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে তাই চিকিৎসক গ্যাস্ট্রোফিক্স দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে শাহজাদপুর বাজারের কোথাও এই দুধ পাওয়া যায়নি। পরে চিকিৎসক আরও ৪টি দুধের যেকোন একটি খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। এই দুধগুলোও বাজারে নেই, দোকানীরা বলছেন এই দুধ গুলো আমদানী বন্ধ রয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দ্বারিয়াপুর বাজারের মেসার্স রবিন স্টোর এর স্বত্বাধিকারী মো. রবিন আকন্দ বলেন, এতোদিন এই ৫ ধরনের দুধ শিশু খাদ্য হিসেবে আমদানী করা হতো। তবে প্রায় দেড় মাস পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ এই দুধ গুলো শিশুখাদ্য হিসেবে আমদানী বন্ধ করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই দুধ গুলো ডায়রিয়া ফর্মালার তাই শিশুদের প্রান রক্ষায় চিকিৎকরা তাদের প্রেসক্রিপশনে এই দুধ লিখে দেন। দেশের কোথাও এই দুধগুলো পাওয়া যাচ্ছেনা তাই অসুস্থ্য শিশুদের অভিভাবকরা বিপাকে পরেছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মানুষ এই দুধ কিনতে আসছেন কিন্তু না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. লিয়াকত আলী জানান, সম্প্রতি শিশুদের ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গিয়েছে এই ক্ষেত্রে কিছু কিছু শিশুর ল্যাক্ট্রোজেন ইন-ট্রলারেন্স থাকে সেখানে আমরা ল্যাক্টোস ফ্রি অথবা পার্সিয়াল ল্যাক্টোস ফ্রি ফর্মলা যেমন- ন্যান এল-১০, ল্যাক্টোজেন রিকভার, ল্যাকটোফিক্স, গ্রাস্ট্রোফিক্স ও এলএফ এধরনের দুধ আমরা শিশু বিষেষজ্ঞগণ পরামর্শ দিয়ে থাকি। বর্তমানে দেশের বাজারে এই দুধগুলোর সরবরাহ না থাকায় অভিভাবকগণ বিব্রত হচ্ছেন এবং শিশুদের চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানাই যেনো এই ডায়রিয়া ফর্মুলার দুধ গুলো আমদানির মাধ্যমে দ্রুত দেশের সর্বত্র পৌছে দেওয়া হয় । এবং এই দুধ গুলো উচ্চ মূল্যের হওয়ার কারণে দরিদ্র মানুষেরা এই দুধ গুলো কিনতে পারেন না। দরিদ্র মানুষেরা যেনো এই দুধগুলো সূলভমূল্যে কিনতে পারে সেই ব্যাবস্থা করা হোক।
