দীর্ঘ আড়াই বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। বুধবার (১১ মে) বিকালে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন চৌধরী ওরফে সম্রাট বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির আদেশ পেয়েই সিসিইউ থেকে কারারক্ষী সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রি. জেনারেল নজরুল ইসলাম খান বলেন, সম্রাট এখনো হাসপাতালের সিসিইউতে রয়েছেন। আগামীকাল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন আর কতদিন থাকতে হবে।
তার সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে এ পরিচালক বলেন, তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা জটিল। হয়তোবা দেশের বাইরেও তাকে চিকিৎসা নিতে হতে পারে। তবে দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি তার পরিবারের ওপর নির্ভর করবে।
এর আগে যুবলীগের বহিষ্কৃত এই নেতাকে আজ সকালে বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান প্রায় ২২২ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার ক্যাসিনোতে তা পাচার করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
সম্রাটের জামিনে তিনটি শর্ত দিয়েছেন আদালত। শর্তগুলো হলো- বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা এবং ৯ জুন ধার্য তারিখে মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখাতে হবে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। পরে বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওইদিনই সম্রাটকে কারাগারে নেয়া হয়।
