রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না ও তার কিশোর ছেলের মুক্তির দাবিতে ঢাকার কলাবাগান থানার সামনে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও মানবাধিকার কর্মী ও উদীচী নেতাকর্মীরা রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘হে পুলিশ আমার মা কই’, ‘পুলিশ আমার বোন কোথায়’, ‘পুলিশ আমার ভাই কোথায়’, ‘মাঠ দখল করে থানা চাই না’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। আজ রোববার রাত ১১টার সময়ও থানার সামনে তাদের বিক্ষোভ চলছিল।
রাত ৯টার দিকে থানার সামনে থাকা উদীচীর সদস্য নাজিয়া নিগার বলেন, নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণেই সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলেকে পুলিশ হয়রানি করছে।
পান্থপথের উল্টোদিকের গলির পাশে একটি খোলা জায়গা রয়েছে। এটি তেঁতুলতলা মাঠ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় শিশুরা সেখানে খেলাধুলা করে। পাশাপাশি মাঠটিতে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হয়।
এই মাঠে কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এর প্রতিবাদ করছেন স্থানীয়রা। মাঠটি রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী গত ৪ ফেব্রুয়ারি পান্থপথের কনকর্ড টাওয়ারের সামনে মানববন্ধন করে। ‘কলাবাগান এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। এতে মানববন্ধনের সংগঠকদের অন্যতম ছিলেন সৈয়দা রত্না।
রত্নার মেয়ে শেউঁতি শাহগুফতা বলেন, কলাবাগানের ওই মাঠটিতে ইট-সুরকি ফেলার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করায় সকাল ১১টার তাঁর মা সৈয়দা রত্না এবং ভাইকে ধরে নেওয়া হয়। তাঁর মা মাঠটি রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠে গত রাতে ইট-সুরকি ফেলছিল পুলিশ। সকালে মা মাঠের সামনে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ করছিলেন। তখন তাঁকে আটক করা হয়। পরে আমার ভাই বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এলে তাঁকেও ধরে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়।’
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠন হাজির হয় কলাবাগান তেতুলতলা মাঠ প্রাঙ্গনে। বেলা, নিজেরা করি, উদীচী, বাফা, ব্লাস্টার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু সংগঠন ছুটে আসে।
