পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ছয় জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব ট্রেন আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে চলাচল শুরু করবে। যাত্রী পরিবহন ছাড়াও ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি ট্রেন চলবে। রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন সেজন্য এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) রেলভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রেলপথ মন্ত্রী। এসময় ট্রেনযাত্রা, টিকিট সংগ্রহসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
যে সকল রুটে চলবে বিশেষ ট্রেন
এবার ৬ জোড়া বিশেষ ট্রেন চাঁদপুর স্পেশাল-১ ও ২ চলবে চট্টগ্রাম- চাঁদপুর- চট্টগ্রাম রুটে। এটি ঈদের আগের দিন ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পর ৪ মে থেকে ৮ মে পর্যন্ত চলাচল করবে। দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলবে ঈদের আগের দিন ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পর ৪ মে থেকে ৮ মে পর্যন্ত চলাচল করবে। খুলনা স্পেশাল (মৈত্রীর রেক দিয়ে) খুলনা -ঢাকা-খুলনা রুটে চলবে ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত। এছাড়া শোলাকিয়া স্পেশাল-১ চলবে ভৈরববাজার- কিশোরগঞ্জ। শোলাকিয়া স্পেশাল- ২ চলবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে। এই দুইটি ট্রেন চলবে ঈদের দিন। এবার ঈদে আন্তঃনগর ট্রেনে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা বিশেষ কামরা যুক্ত করা হচ্ছে।
ঈদের টিকিট সংগ্রহ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যে সকল যাত্রী ২৭ এপ্রিল যাতায়াত করবেন তাদেরকে ২৩ এপ্রিল জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। ২৮ এপ্রিল যাতায়াত করার জন্য টিকিট কাটতে হবে ২৪ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল যাতায়াত করার জন্য টিকিট কাটতে হবে ২৫ এপ্রিল, ৩০ এপ্রিল যাতায়াতের জন্য টিকিট কাটতে হবে ২৬ এপ্রিল, ১ মে যাতায়াতের জন্য টিকিট কাটতে হবে ২৭ এপ্রিল।
ফিরতি টিকিট
ঈদ শেষ করে ফিরে আসার জন্য ১ মে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ৫ মে যাতায়াতের টিকিট পাওয়া যাবে ১ মে, ৬ মে যাতায়াতের টিকিট কাটতে হবে ২ মে, ৭ মে যাতায়াতের জন্য টিকিট কাটতে হবে ৩ মে, ৮ মে যাতায়াতের জন্য টিকিট কাটতে হবে ৪ মে। ২, ৩ এবং ৪ মে টিকিট বিক্রি হবে চাঁদ দেখার ওপরে নির্ভর করে।
ঈদুল ফিতরের দিন কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ঈদের ৭ দিন আগে অর্থাৎ আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের অফ-ডে থাকবে না এবং ঈদ পরে যথারীতি অফ-ডে কার্যকর করা হবে। অফ-ডে প্রত্যাহারের ফলে অতিরিক্ত ৯২টি আন্তঃনগর ট্রেন বিশেষ ট্রিপ হিসেবে পরিচালিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘টিকেট যার, ভ্রমণ তার’ এই শ্লোগান বাস্তবায়নে টিকেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে যাত্রীদের এনআইডি/জন্ম সনদ ফটোকপি কাউন্টারে প্রদর্শনপূর্বক টিকেট ক্রয় করতে হবে। এনআইডি ব্যতীত অন্য কোনো পরিচয়পত্র দিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে না।
নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ইন্টারনেটে ই-টিকেটিংয়ের মাধ্যমে ঈদ অগ্রিম টিকিট বিক্রি সকাল ৮টায় শুরু হবে। এছাড়া কাউন্টারে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এক নাগাড়ে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় চলবে। প্রতিটি টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রে একটি করে মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কাউন্টার থাকবে। প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে শুধুমাত্র মহিলা ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য একটি করে স্বতন্ত্র কোচ সংযোজন করা হবে। একজন যাত্রী একসাথে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট ক্রয় করতে পারবে। কিন্তু ঈদের অগ্রিম বিক্রিত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। স্পেশাল ট্রেনের কোনো টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার হতে বিক্রি করা হবে।
এদিকে অগ্রিম টিকিট ক্রয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রী চাপ কমাতে রাজধানীর ৫টি কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট রুটের টিকিট বিক্রি করা হবে। এগুলোর মধ্যে কমলাপুর থেকে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ও খুলনাগামী স্পেশাল ট্রেনের টিকিট; বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট; তেজগাঁও থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুরগামী ও দেওয়ানগঞ্জ স্পেশালসহ সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জগামী মোহন ও হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট এবং ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন) থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে।
