বেতন-ভাতা (মাইলেজ) সংক্রান্ত দাবি মেনে না নেওয়ায় সারাদেশে ধর্মঘট পালন করছেন ট্রেন চালকরা। বুধবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে তারা সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারাদেশে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভোর থেকে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ ধর্মঘটে বিপাকে সাধারণ মানুষ ও অফিসগামী যাত্রীরা।
রেলওয়ের রানিং স্টাফ (চালক-গার্ড) ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় চালকরা কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। ট্রেনের লোকো মাস্টার ও রানিং স্টাফ কর্মচারীরাও কর্ম বিরতিতে গেছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রেনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠক চলছে। সেই বৈঠক থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত না আসায় এখনও ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি।
রেলওয়ের (পশ্চিম) মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রেলওয়ের রানিং স্টাফরা অবসরকালীন সুবিধার সঙ্গে ৭৫ শতাংশ রানিং অ্যালাউন্সের দাবিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সংবাদটি জানার পর ৬টার দিকে স্টেশনে গিয়ে দেখি সব ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।
ট্রেন চালকদের একটা দাবি, নির্দিষ্ট আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে যে অতিরিক্ত ভাতা (মাইলেজ) দেওয়া হয়, সেটা যেন সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা করে সেটা পরিশোধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিন্তু সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে রেলের রানিং স্টাফদের মাইলেজ সুবিধা বাতিল করে। রানিং স্টাফ বলতে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটি) বুঝানো হয়।
মাইলেজ হলো রেলের সংস্থাপন কোড অনুযায়ী, রানিং স্টাফরা দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বা ১০০ মাইলের বেশি ট্রেন চালালে একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা রানিং ভাতা হিসেবে পাবেন। ভাতার ৭৫ শতাংশ টাকা যোগ হতো পেনশনে।
