সৃজিত প্রচণ্ড ব্যস্ত, প্রায়ই বাড়িতে থাকে না: মিথিলা

সৃজিত মুখার্জি ভারতের কলকাতার মানুষ। সিনেমা নির্মাণ করে পেয়েছেন অসামান্য খ্যাতি। দেশটির জাতীয় পুরস্কার পর্যন্ত বগলদাবা করেছেন তিনি। বছর কয়েক আগেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি কেবল ভারতীয় নির্মাতা ছিলেন। তবে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর থেকে সৃজিত এ দেশের জামাই!

ওই তারিখেই বাংলাদেশের অভিনেত্রী-গায়িকা রাফিয়াত রশিদ মিথিলাকে বিয়ে করেছেন সৃজিত মুখার্জি। আর বিয়ের পর কলকাতায় থিতু হয়েছেন মিথিলা। সেখানে কাজ করছেন একের পর এক সিনেমায়, সঙ্গে ঢাকা টু কলকাতার আসা-যাওয়া তো রয়েছেই।

সম্প্রতি মিথিলার কাছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানতে চায়- এখন তার কাছে ঢাকার থেকেও কলকাতা বেশি আপন কিনা?

এমন প্রশ্নে মিথিলা বলেন, সেটাই হতে বাধ্য। একে অনেক দিন হয়ে গিয়েছে। তার উপর আমাকেই একা হাতে সব সামলাতে হয়। সৃজিত প্রচণ্ড ব্যস্ত। প্রায় থাকেই না বাড়িতে। আমার ব্যস্ততাও তাই বেড়েছে। দুটো বাড়ি। একটি ঢাকায়। একটি কলকাতায়। দুটো বাড়ির প্রতি সমান নজর। সঙ্গে পেশাগত ব্যস্ততা। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ। দুই বাংলায় অভিনয়। গবেষণা করা। সব মিলিয়ে একটু চাপ পড়েছে। তবে এই ব্যস্ততা সত্যিই উপভোগ করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার পেশাগত কোনও ব্যাপারে সৃজিত মুখোপাধ্যায় কখনও মাথা ঘামান না। মন্তব্যও করেন না। আমি কোন চরিত্রে, কোন পরিচালকের কী ছবিতে বা কোন দেশের ছবিতে বা সিরিজে অভিনয় করব, সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

মিথিলা বলেন, কলকাতা আমাকে নতুনভাবে আবিস্কার করেছে। আমি বরাবর গাছপালা ভালবাসি। কিন্তু এখানে অতিমারির সময় বাড়ির ছাদে নিজের হাতে বাগান করেছি। ১০০ গাছে নানা সবজি, ফুল ফলিয়েছি। তখনই বুঝলাম, আমার মধ্যে এই গুণটা লুকিয়ে ছিল। ঢাকার বাড়িতে কখনও একা থাকিনি। সব সময় মা-বাবা, আত্মীয়, বন্ধু, পরিবারের সঙ্গে থেকেছি। সেখানে এই শহরে আমি আর আমার মেয়ে। একটা বয়সের পরে কোনও মেয়ে এ ভাবেও যে একা একা থাকতে পারে, অনেক কিছু সামলাতে পারে, শিখতে পারে— এটা কলকাতায় না এলে জানতেই পারতাম না। পাশাপাশি, অভিনয়ের ক্ষেত্রেও এখানকার বিনোদন দুনিয়া আমায় চেনা গণ্ডির বাইরে যেতে সাহায্য করেছে।

সব হচ্ছে কিন্তু সৃজিতের পরিচালনায় অভিনয় হচ্ছে না, একটু কষ্ট, অভিমান আছে?

জানতে চাইলে মিথিলা বলেন, কোনও কষ্ট বা অভিমান নেই। এই শহরে এসে একটি বছর আমি চুপচাপ বসে ছিলাম। বাড়ি থেকে যাবতীয় কাজ করছি। নতুন শহর। আশপাশে কেউ চেনা নেই। অতিমারির কারণে বাড়ি বন্দি। আমার পেশার কী হবে? তখন এ গুলো মনে হত। কিন্তু সৃজিত কেন ওর ছবিতে কাজ দিচ্ছে না, এক বারের জন্যও মনে হয়নি। কারণ, আমি জানি সৃজিত ও রকম নয়। এ ভাবে হয়ও না। স্বামী পরিচালক হলেই স্ত্রী নায়িকা হবে— দূর থেকে মনে হয়। বাস্তব তেমন নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *