নীরবতা ভেঙে অবশেষে মুখ খুললেন কাজী মারুফ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা কাজী মারুফ এখন বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক শ্রেণির দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই অভিনেতা হুট করেই দেশ ছেড়েছেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে স্থায়ীভাবেই মার্কিন মুলুকে বসবাস করছেন।

কাজী মারুফ যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও মন তাঁর দেশে পড়ে থাকে। তাঁর ধ্যানজ্ঞান এখনো বাংলা সিনেমা নিয়ে। তবে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন পরবর্তী কান্ডে বিরক্ত তিনি।

সম্প্রতি লাইভে কাজী মারুফ বলেন, আমার একটা কথাই বলার আছে। এটা অল্প কিছু মানুষের নির্বাচন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানোর কী ছিল? যেটা হচ্ছিল ফুল দেওয়া আর সেলফি তোলা, যেখানে সিনেমাই নেই। প্রায় ৯৫ ভাগ শিল্পী বেকার। সেখানে শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে এত…ইয়ে ভালো না। এটা এখন আদালতে আছে। হয়তো বিচার হয়ে যাবে। কেউ একজন আসবেন। তাঁরা শিল্পীদের কল্যাণ, চলচ্চিত্র নিয়েই কাজ করবেন।’

এই অভিনেতা বলেন, ‘এখন আর সিনেমা হয় না। সিনেমা সেভাবে বানানো হয় না। যাঁদের সিনেমা চলে না, তাঁদের নিয়ে মিডিয়ায় অনেক মাতামাতি হয়। আর যাঁদের সিনেমা চলত বা চলে, তাঁদের প্রতি একশ্রেণির ভালোবাসা নেই। তবে দর্শক তাঁদের ভালোবাসেন। আসলে যাঁরা জনগণের প্রিয় বা জনপ্রিয়, তাঁদের মূল্য কম। আর যাঁরা সামাজিকভাবে স্বীকৃত না, যাঁরা অশালীন কাজ করেন, যা সামাজিকভাবে স্বীকৃত নয়। নিউজে এসে পপুলার তাঁদের নিয়ে লাফালাফি বেশি হয়। আরেকটা কথা, এখন হিরো সবাই। এর মধ্যে না হয় আমি না–ই থাকলাম।’ অভিমান করেই কথাগুলো বলেন এই অভিনেতা।

মারুফ এখনো সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পান ‘ইতিহাস’ সিনেমার জন্য। কিন্তু প্রায়ই তাঁকে দর্শকদের সামনে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। তার কারণ সিনেমার কয়েকটি দৃশ্যে তিনি গালি দিয়েছিলেন। দৃশ্যগুলো অনেকেই ট্রল করেন।

এ প্রসঙ্গে মারুফ বলেন, ‘তোমাদের কাছে প্রশ্ন তোমরা কী বুঝে করো ট্রল। ইউটিউবে ভিউ বাড়ানোর জন্য কাউকে ট্রল করলে মানুষ ধিক্কার দেয়। অথচ এগুলোর কেউ প্রতিবাদও করছেন না। “ইতিহাস” সিনেমায় আমি দুটি দৃশ্যে গালি দিয়েছিলাম। বলেছিলাম কুত্তার বাচ্চা। কিন্তু কাকে বলেছিলাম, কেন বলেছিলাম। সেটা আপনাদের জানতে হবে। ভণ্ড পীর আমাকে দিয়ে খারাপ কাজ করায়। আমার গল্পের প্রাসঙ্গিক জায়গা থেকে তখন আমি গালিগুলো দিয়েছি। আপনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, আপনার বোনকে যদি কেউ বাজে কথা বলে, বাজে দৃষ্টিতে তাকায় বোনের সামনে কি বলবেন, “ভাইয়া, এভাবে তাকিয়ো না।” বাস্তবতা আরও খারাপ। সবকিছুর একটা কারণ থাকে। এগুলো নিয়ে আর কেউ ট্রল করলে আপনারা প্রতিবাদ করবেন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করে ভাইরাল হওয়ার জন্য ভুলভাল বলি না। নেগেটিভ পাবলিসিটি আমি পছন্দ করি না। আমাকে একই সমাজের মধ্যে থাকতে হয়। শুধু শুধু ট্রল করবেন না। আমি একটি ওয়েব ফিল্ম বানাব, কীভাবে সামাজিক মাধ্যম একজনের সামাজিক জীবন নষ্ট করে দেয়। সেটাই হয়তো দেখাব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *