শোবিজের আলোচিত নাম শাহ হুমায়রা সুবাহ। ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে প্রেম-বিচ্ছেদের ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি। তবে সেই দুঃখ ভুলে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বেশ কিছু নাটক, সিনেমায় অভিনয় করেছেন সুবাহ।
গত বছরের শেষের দিকে সুবাহকে বিয়ে করেছিলেন দেশের সুপরিচিত গায়ক ইলিয়াস হোসাইন। তাদের দাম্পত্য জীবনের এক মাস অতিক্রম না হতেই বেঁজে ওঠে ভাঙনের সুর। এরপর ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনেন সুবাহ। এমনকি এই গায়কের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেন তিনি। এরপর সুবাহর বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করেন ইলিয়াস। তাদের দাম্পত্য কলহ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দুজনের লড়াই এখন আদালতে।
সুবাহ গত সোমবারই (১৪ মার্চ) ছয় সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন পেয়েছেন হাইকোর্ট থেকে। ইলিয়াস হোসাইনের মামলায় জামিন পান তিনি। ওই দিন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিনেত্রীকে জামিনের এ আদেশ দেন।
সুবাহর জামিনের পর দিনই গণমাধ্যমের খবরে পশ্ন ওঠে সুবহা কী ইলিয়াসের আগে গাইবান্ধার কাউকে বিয়ে করেছিলেন? এ নিয়ে ইলিয়াস হোসাইন বলেন, সুবহা মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। অথচ সে আগেও অনেককে আমার মতো করেই ফাঁসিয়েছে। তার আগের বিয়ের খবর শুনলাম। এসব কথা সে গোপন রেখেছিল। আমি আর তার সঙ্গে সংসার করতে চাই না। সেজন্য আইনি সহায়তা নিয়েছি।
এদিকে জামিন পাওয়ার দু’দিন পর সুবাহ তার আগের বিয়ে ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। বুধবার (১৬ মার্চ) ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে এক স্ট্যাটাসে জানান, আমি যদি মরে যাই বা গুম হই তার জন্য ইলিয়াস ও তার পরিবার দায়ী।
সুবাহ লিখেছেন, ‘ইলিয়াস নিজেই আমার আগে তিন চারটা বিয়ে করেছে। সবগুলার খবর পত্রিকায় কাভারেজ হয়েছিল এবং সে সবার কাছ থেকেই ডলার এবং টাকা চাইত। তার ১ম বউ আমেরিকা প্রবাসী নিশাত তাবাসসুম আলম বলছে সবখানে। তার দ্বিতীয় সুইডেনের স্ত্রী এবং তার মায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, তারাও বলেছে তাদের থেকেও সে বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা চাইত। এসবের রেকর্ড আমার কাছে আছে।’
নিজের বিয়ের বিষয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার যদি আগে বিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আগের বিয়ের কাবিননামা আছে? কাবিননামা বা রেজিস্ট্রির কাগজ ছাড়া তো বিয়ে হওয়ার কথা না। এইসব উল্টা-পাল্টা মিথ্যা ছড়িয়ে সে আমার দেয়া মামলাগুলো থেকে বাঁচতে চাচ্ছে। যেন আমি মামলা তুলে নেই এবং দেনমোহরের টাকা না দেয়ার ফন্দি করছে সে। আমি জানি সে নারী ও টাকা লোভী পুরুষ, তাই আমি সবাইকে জানিয়ে দেনমহরের টাকাটা চেয়েছি। আর এটাই হয়েছে আমার দোষ!’
তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন পর নাটক সাজিয়ে আনছে! আমার আগের তিন বিয়ে হওয়া পুরুষকে আমি কীভাবে ফাঁসিয়ে বিয়ে করব তাও এত কম টাকা কাবিনে, দেনমহরে? যদি ফাঁসিয়ে বিয়ে করতাম তাহলে দেনমোহর থাকতো ৭৭ লক্ষ টাকা। মাত্র ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা থাকতো না। সে দোষী না নির্দোষ সেটা আদালতে প্রমাণ হবে ইনশাআল্লাহ। আর আমার ১০০ বিয়ের কথা বলে আমাকে ভাইরাল করা যাবে, বাট মামলা থেকে বাঁচা যাবে না।’
সর্বশেষ এই অভিনেত্রী তার নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, ‘আমার যদি কোনো প্রকারের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং আমি মরে যাই বা আমি গুম হয়ে যাই বা হারিয়ে যাই এর জন্য ইলিয়াস হোসেন এবং তার পুরো পরিবার দায়ী থাকবে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমাকে সে সব সময় ভয় ভীতি দেখাচ্ছে, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে এবং সামাজিকভাবে হেয় করছে। আমি অনেক ভেঙে পড়েছি।’
