ঢালিউডে গত বছরে সিনেমা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সিনেমা নিয়ে তিনি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’- দিয়ে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়েছেন নামের রোশনাই।
২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হন তিনি। এরপরই শুরু হয় মিডিয়ায় পথচলা। জীবনের নানা প্রলয় পেরিয়ে আসা ক্যারিয়ারে সফল এই তারকা সম্প্রতি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
আপনার কাছে ভালো থাকার মানে কী?
আজমেরী হক বাঁধন: ভালো থাকার জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরে আমি যেভাবে থাকতে চাই এবং যেমন করে আমার জীবনটাকে যাপন করতে চাই, সেভাবে যদি থাকতে পারি, তখন বলা যায়—ভালো আছি। যখন মাথায় অনেক নতুন চিন্তা খেলা করে, তখন অনেক ভালো লাগে। তবে আশপাশে যখন নিপীড়নের ঘটনা চোখে পড়ে, অসংগতি দেখি, তখন ভালো থাকতে পারি না।
ভালো থাকার জন্য কী কী করেন?
বাঁধন: ভালো থাকার জন্য নিজের শরীরের সুস্থতার ওপর নজর দিয়েছি। নিয়মিত ব্যায়াম করি, যা আমার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই ভালো রাখে। একটা সময় আমার ওজন বেড়ে গিয়েছিল, যা আমার স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ছিল না। সেদিক থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। মন ভালো রাখতে সিনেমা দেখি, বই পড়ি, ঘুরে বেড়াই। কেউ শুনুক বা না শুনুক আমার যেটা ভালো লাগছে না, সেটা এখন অকপটে বলি, আগে যা বলতাম না। এটা আমাকে এক ধরনের মুক্তি দেয়, ভালো লাগাও দেয়। কারণ মানুষ হিসেবে আমার অধিকার রয়েছে, যে বিষয়টা আমার ভালো লাগছে না, তা নির্দ্বিধায় বলার।
নিজেকে কতটা ভালোবাসেন?
বাঁধন: নিজেকে ভালোবাসতে পারা তো একটা অভ্যাসের ব্যাপার। দুঃখজনক যে, এ ব্যাপারটা আমাদের মধ্য়ে গড়ে তোলাই হয় না। আমাদের সমাজে এখনো যখন একটা মেয়ে বলে, ‘আমি নিজেকে ভালোবাসি’, তখন আশপাশের সবাই ধরে নেয় মেয়েটা বুঝি স্বার্থপর; কেবল নিজেকে নিয়েই ভাবে। ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত আমি আমার ভালো লাগা, ইচ্ছে বা নিজের ওপর কখনো ফোকাস করিনি। এককথায় প্রাধান্য দিইনি। সমাজের তথাকথিত আদর্শ নারীরা যা যা চিন্তা করেন বা যা করেন, সবার জন্য আমিও সেই অনুযায়ী সব করতাম। এখন আমার বয়স ৩৮ বছর। চার বছর ধরে যখন আমি নিজেকে মানুষ হিসেবে উপলব্ধি করতে শুরু করেছি, তখন মনে হয়েছে নিজেকে ভালোবাসাটা খুব জরুরি।
জীবনের অনুপ্রেরণা কে?
বাঁধন: সেভাবে আলাদা করে কারও কথা বলতে পারছি না। যুগে যুগে সমাজে পরিবর্তন এনেছেন—এমন মানুষের জীবনের গল্প বা তাঁদের মুভমেন্ট আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। আমি মনে করি, প্রতিটি মানুষের জীবনকৌশল ও লক্ষ্য আলাদা হবে এবং তাদের মুভমেন্টও আলাদা হবে। তবে হ্যাঁ, ছোটবেলায় খুব বেশি মাদার তেরেসার ভক্ত ছিলাম। তিনি যে তাঁর জীবনের সবটুকু দিয়ে মানুষের সেবা করতে পেরেছেন, এ ব্যাপারটা আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করত।
ব্যক্তিগত জীবনে এত সংগ্রামের পর ক্যারিয়ারে এত সফল। কীভাবে সব সামলেছেন?
বাঁধন: একমাত্র আমিই আমার পাশে ছিলাম। ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার পর আমি সবাইকে পাশে পেয়েছি, এর আগে নয়। এতে করে আমি যেমন অনেক শক্ত হতে পেরেছি; আবার একাকিত্ববোধও হয়েছে। তবে আমি জানি, আমার জন্য আমিই যথেষ্ট। আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু আসলে সে নিজেই। একজন মানুষ নিজেই কেবল পারে তার জীবনকে পরিবর্তন করতে।
নিজের সফলতা কীভাবে উপভোগ করেন?
বাঁধন: আমার সবচেয়ে বেশি যা ভালো লাগে তা হলো, আমার মেয়ে তার মাকে হেরে যেতে দেখে না। তার কাছে তার মা ‘হিরো’। অসংখ্য নারীর কাছে আমি হিরো; এ ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে। আমার ছোট ভাই আর কাজিনরা যখন আমাকে বলে, ‘তুমি তো আমাদের হিরো’, তখন সত্য়িই আমার খুব ভালো লাগে।
রেহানা মরিয়ম নূরের পর ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বাঁধন: গত মাসে ভারতীয় চলচ্চিত্রকার বিশাল ভরদ্বাজের সিনেমা ‘খুফিয়া’-এর শুটিং করে এলাম। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে ‘খুফিয়া’ মুক্তি পাবে। দেশে অ্যাপেলবক্স প্রোডাকশনের একটা সিনেমা করার কথা। শুটিংয়ের তারিখ ঠিক ছিল; কিন্তু বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়ে। কাজ শুরু হলে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। এখন স্যামসাংয়ের একটা প্রমোশনের কাজ করছি, আর ইশো ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হয়েছি। এর বাইরে কোনো কাজের চাপ নিচ্ছি না। অভিনয়েই মূল ফোকাস রাখতে চাই।
