বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নাটকীয়তার শেষ হচ্ছে না। নির্বাচনের মাসখানেক সময় পার হয়ে গেলেও এই পদে এখনও নিশ্চিত করে বসতে পারেননি কেউই। সবশেষ সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানকে বৈধতা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় জায়েদ খান ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের জন্যও এই পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থিতিবস্থা জারি করেছেন। ফলে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবেন না কেউ। সঙ্গে সঙ্গে আবেদনটি চার এপ্রিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নায়িকা নিপুণের করা আপিলের শুনানি নিয়ে রোববার (৬ মার্চ) আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে নিপুণের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান। অন্যদিকে জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি ও জিবুল হক ভুইয়া।
এদিকে রায় ঘোষণার পরে আদালতের সামনে জায়েদ খানের আইনজীবি অ্যাডভোকেট আহসানুল করিমের কাছে একাধিকাবার ‘সরি’ বলতে দেখা যায় নিপুণকে। এ সময় সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সামাজিক মাঘ্যমে আইনজীবির কাছে নিপুণের দু:খ প্রকাশ করার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেম্বার আদালত থেকে বের হয়ে নিপুণের সঙ্গে আসা একজন চলচ্চিত্র পরিচালক বলতে থাকেন, নিপুণ আজ থেকে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবেন। তার এ কথা জায়েদ খানের আইনজীবী আহসানুল করিম শুনতে পান।
তখন আইনজীবী আহসানুল করিম তাকে বলেন, আদালতের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা কেন করছেন? এ সময় আইনজীবীর সঙ্গে তর্কে জড়ান ওই পরিচালক। তখন আহসানুল করিম বলেন, স্টুপিড। আপনার এত সাহস। এ সময় নিপুণ বার বার জায়েদ খানের আইনজীবীর কাছে স্যরি বলে ক্ষমা চান। নিপুণ বারবার বলেন, মামলা তো আমার। আমি আপনাকে ‘সরি’ বলছি।
এর আগে কয়েক দফা রুল শুনানির পর ২ মার্চ জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জায়েদ খানই এই সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন বলে জানানো হয়।
জায়েদের রিটে জারি করা রুল যথাযথ করে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
এরপর শুক্রবার (০৪ মার্চ) এফডিসিতে জায়েদ খান শপথ নেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন।
এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ রুল শুনানি শুরু হয়।
