ঢাকা- দেশে মদ বিক্রি ও পান নিয়ে সরকারের নির্দেশনার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘কোরআন ও ইসলাম যেহেতু মদকে নিষিদ্ধ করেছে, আমাদের উচিত সরকারের এই চেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আন্দোলন গড়ে তোলা।’
শুক্রবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এই নেতা।
সেই সঙ্গে দ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম না কমালে আন্দোলন শুরু করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
‘অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২’ প্রণয়ন করেছে সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, ২১ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তিকে মদ পানের অনুমতি দেয়া যাবে না। এর বেশি বয়সী যে কেউ অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মুসলিমদের ক্ষেত্রে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদমর্যাদার কোনো ডাক্তারের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
এই নির্দেশনা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘ইসলাম মদকে হারাম করেছে। শেখ মুজিবুর রহমান দেশে মদ নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর এই সরকার তা হালালের চেষ্টা করছে। মতিয়া চৌধুরী ২০১৮ সালে সমাবেশে বলেছেন, বিএনপি মদের লাইসেন্স দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। আর আপনি কি ২১ বছরের সন্তানদের মদের লাইসেন্স দিয়ে তাদের চরিত্রকে উত্তম করার চেষ্টা করছেন?’
মদ বিক্রির অনুমতির বিরুদ্ধের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোরআন ও ইসলাম যেহেতু মদকে নিষিদ্ধ করেছে, আমাদের উচিত সরকারের এই চেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আন্দোলন গড়ে তোলা।’
এ সময় গত বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির সফর ঘিরে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলেমদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন,‘চাল ডাল তেলের দাম বাড়ছে। মধ্যবিত্তের লোকজনও লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনছে। সেদিকে সরকারের ভ্রুক্ষেপ নাই।’
তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বে কেরোসিনের দাম যখন কমে, বাংলাদেশে তখন বাড়ে। এ এক আজব দেশ, আজব সরকার। এখানে কোনো কিছুর দাম একবার বাড়লে আর কমে না।’
সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। আরও বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নেছার উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নগর উত্তর সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম, দক্ষিণ সেক্রেটারি আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ডা. শহীদুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম নাঈম, কে এম শরীয়াতুল্লাহ, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, ছাত্রনেতা সাব্বির আহমাদ ও নাঈম বিন জামশেদ প্রমূখ।
